সবুজ মনের রসদ
Ichchhamoti Logo

রামনগর ছাড়ার পরে একদম প্রশস্ত হাইওয়ে, আর আমাদের থামায় কে... ঘণ্টায় দুয়েক-এর মধ্যেই শ্রীরঙ্গপত্তনম পৌঁছে যেতে পারব। গাড়ির তখন বেশ স্পিড তুলেছে, রাস্তার ধারে একটা রেল লাইনও দেখা যায়... মাইসোরের দিকে গেছে, আর ছোট ছোট টিলা পথের দু’পাশে। সকালের সেই দুষ্টু মেঘ আর ঝিরঝির বৃষ্টিটা আর নেই, হালকা রোদ উঠেছে আকাশে মেঘ ভেঙ্গে। কোথাও কোথাও মেঘগুলো ভারী মেঘের টুকরোগুলো অদ্ভুত ভাবে টিলা ছুঁয়ে আছে, যেন উড়তে উড়তে এসে টিলায় ধাক্কা খেয়েছে, আর এই মোটা শরীর নিয়ে টিলা পার করে যেতে পারছে না! বুঝতেই পারো, কলকাতার ছেলে... বেড়াতে বেরিয়ে পাথরের ঢিবি দেখলেও পাহাড় ভাবে, আমারও এই সারি সারি টিলা ছড়িয়ে ছিটিয়ে চারিদিকে দেখে মনে হ’ল, এইখান থেকেই আমার বেড়ানো শুরু হ’ল। দু পাশে এই টিলাদের পেছনে ফেলতে ফেলতে আমাদের গাড়ি এগিয়ে গেল। একসময় রাস্তার বাঁদিকে, একটু একটা বেশ বড় টিলা চোখে পড়ল, অন্য টিলাগুলোর থেকে দেখতে একটু আলাদা... ঠিক যেন সমুদ্র থেকে একটা তিমি মাছ মাথা তুলে আছে। ভাইজাগের (বিশাখাপত্তনম) সমুদ্রতীরে ঠিক এইভাবে একটা পাহারের অংশ সমুদ্রতীরে এসে মিশেছে, তাকে বলা হয় ‘ডলফিন্‌স নোজ্‌’। এই টিলা আকাড়ে অত বড় না হলেও, যেন তারই একটা ছোট সংস্করণ। সামনে দিয়ে সেই রেল লাইনটা চলে গেছে, টিলা অবধি যেতে গেলে সেই রেল লাইন পার হয়ে বেশ খানিকটা যেতে হবে... ইউকালিপ্টাস গাছের জঙ্গল আর কাঁটা ঝোপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে। কেবলমাত্র বেড়াতে বেরোনোর আনন্দ কিনা জানি না, তিমি মাছ টিলা-র কোন দিকে সূর্যের উঁকি দেওয়া, আকাশে মেঘ ভাঙা রোদ, ইউক্যালিপ্টাসের জঙ্গল... ভীষণ সুন্দর লেগেছিল সেদিন দেখতে। মহেশকে বললাম গাড়িটা দাঁড় করাতে। বেচারা বুঝল না ঠিক কেন থামতে বলছি, তবে লক্ষ্মী ছেলের মত সাইড করে দিলো গাড়িটা। ইচ্ছে ছিল, একবার টিলার কাছ অবধি যাই। কিন্তু দেখে বোঝা যায়, এ কেবল দেখতেই সুন্দর। যত এগবো - আগাছার জঙ্গল, কাঁটা ঝোপ... এমন কি পাহাড়ী বিষাক্ত সাপ থাকাও অস্বাভাবিক নয়। তাই দূর থেকেই দু’তিনটে ছবি তুলে আবার গাড়িতে ফিরে এলাম। মহেশকে জিজ্ঞেস করলাম ‘শ্রীরঙ্গপত্তনম কিতনা দূর?”... সে মাথা নেড়ে সবজান্তার মত বলল, “সিক্সটি কিলোমিটার স্যার”।

সেই ডলফিন নোজ্‌-এর মত টিলা-টাকে পেরিয়ে আমরা হাইওয়ে ধরে এগিয়ে চললাম... সারি সারি ইউক্যালিপটাসের পাতার আড়াল থেকে সূর্য ঝিকমিক করছে... পথের দু’পাশে ছড়ানো ছিটোনো এবরো খেবরো টিলা, আর আগাছার জঙ্গল... তবে ওইরকম সুন্দর টিলা আর একটাও চোখে পড়ল না। এরপর যতবার ওই মাইসোর রোড হাইওয়ে দিয়ে গেছি, আমার চোখ খুঁজেছে ওই টিলাটাকে... দেখতে পেলেই গাড়ি থামাতে বলেছি। আজ অবধি এই টিলার সামনে দিয়ে গেছি, আর গাড়ি থামিয়ে তার সামনে দু-দণ্ড দাঁড়াইনি এমন হয়নি... বোধহয় এই ভাবেই জীবন জুড়ে ছোট ছোট ভাল লাগা ছড়িয়ে থাকে। শহর এবং তার আসেপাসের এইসব টিলা ভেঙেই পাথর কাটা ব্যবহার করা হয় – স্টোন চিপ্‌স বানানোর জন্য, কন্সট্রাকশনের কাজে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়াতে... এই ভাবেই একাধিক টিলা একটা একটা করে নেই হয়ে যাচ্ছে। হয়ত একদিন মাইসোর রোড দিয়ে যেতে যেতে এই তিমি মাছের মত টিলাটাকেও আর খুঁজে পাব না... তবু এই ভাবে, জীবন জুড়ে ছোট ছোট ভাল লাগা ছড়িয়ে থাকে। তাই না? এই ভাবে পথের দু’পাশে মেঘ আর টিলা পেরোতে পেরোতেই হঠাৎ দেখলাম একটা বিরাট লম্বা গেটওয়ে তাতে তিনটে ভাষায় স্বাগত জানানো হয়েছে, ইংরাজীটা বলছে – ‘Welcome To Channapatna’

(ক্রমশ)

ছবিঃ জয়দীপ চ্যাটার্জি
উইকিপিডিয়া

পুরোপুরি কলকাতার মানুষ হলেও, জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়ের নিবাস এখন ব্যাঙ্গালোর বা ব্যাঙ্গালুরু। কলকাতারই কলেজ থেকে বি টেক পাশ করে এখন একটি বহুজাতিক সংস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মী। বাংলা সাহিত্যের প্রতি ভালবাসা থেকেই মাঝে মধ্যে একটু লেখা আর সময় সুযোগ হ'লে ব্যাগ গুছিয়ে কাছে-দূরে কোথাও বেরিয়ে পড়া, এই নিয়েই জয়দীপ। সেই সব বেড়াতে যাওয়ার নানা রকম অভিজ্ঞতা ছোটদের কাছে বলার ইচ্ছে বহুদিন। সেই ইচ্ছাপূরণ করতেই ইচ্ছামতীর ছোট্ট বন্ধুদের জন্য কলম ধরা।

আমরা, ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র রূপে গড়ে তুলতে সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে শপথগ্রহণ করছি এবং তার সকল নাগরিক যাতে : সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার; চিন্তা,মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম এবং উপাসনার স্বাধীনতা; সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জন ও সুযোগের সমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং তাদের সকলের মধ্যে ব্যক্তি-সম্ভ্রম ও জাতীয় ঐক্য এবং সংহতি সুনিশ্চিত করে সৌভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলতে; আমাদের গণপরিষদে, আজ,১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর, এতদ্দ্বারা এই সংবিধান গ্রহণ করছি, বিধিবদ্ধ করছি এবং নিজেদের অর্পণ করছি।

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা