সবুজ মনের রসদ
Ichchhamoti Logo

বিশ্বমাতার অপার মহিমা ও মমতায় আমরা সবাই মুগ্ধ। এই ভুবনে তিনি কীভাবে এত সন্তানের লালন-পালন করেন! তাঁর হাত ধরেই সৃষ্টি ও ধ্বংসের চক্র চলে। হে বিশ্বজননী, আমাদের আশীর্বাদ করো যেন আমরা দূষণের হাত থেকে ধরণীকে রক্ষা করতে পারি। সন্তানের এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে হৃদয়ে গভীর কলঙ্ক থেকে যাবে। পাখির কলতান ও মৃদু বাতাসের ছোঁয়ায় তিনি আমাদের সঙ্গে কথা বলেন, যা অনেকে শুনতে পায় না। সূর্যের কিরণ ও চাঁদের আলো আমাদের জীবন সাজিয়ে তোলে। এ ভুবনের বৃক্ষলতা, ফুল ও ফল—সবই তাঁর অলংকার।

আজ মানুষ নির্বিচারে গাছপালা ও পশুর বাসস্থান ধ্বংস করছে। তারা বোঝে না, ধরণী কষ্টে থাকলে মানবজাতির ক্ষতি অনিবার্য। যিনি প্রখর রৌদ্র থেকে সন্তানকে আগলে রাখেন, আজ সেই সন্তানেরাই তাঁর আঁচল ছিঁড়ে দিচ্ছে। পাখিরা আর স্নেহের গান শোনায় না, ফুলেরা সুগন্ধ ছড়াতে চায় না। গাছেরা ভীত, কারণ কিছু মানুষ তাদের সম্পদ কেড়ে নিচ্ছে। তবুও তারা বলে—"ওরা তো আমাদের ভাই-বোন, ওদের ক্ষমা করো।"

আজ সন্তানশোকে জননী বিরহিণী ও পাষাণ মূর্তি ধারণ করেছেন। বৃক্ষের অস্তিত্ব না থাকলে ধরিত্রী ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে; থাকবে শুধু তপ্ত নদীর হাহাকার। যাঁরা পরিবেশ ধ্বংস করছ, সাবধান হও! নতুবা এই পৃথিবী মৃন্ময়ী নয়, চামুণ্ডা রূপে আবির্ভূতা হবেন। নদী, সমুদ্র ও জলরাশি তখন অস্ত্র হয়ে জীবন কেড়ে নেবে। সময় এসেছে জেগে ওঠার, এই ধরণীকে বাঁচাও।

আমরা, ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র রূপে গড়ে তুলতে সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে শপথগ্রহণ করছি এবং তার সকল নাগরিক যাতে : সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার; চিন্তা,মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম এবং উপাসনার স্বাধীনতা; সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জন ও সুযোগের সমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং তাদের সকলের মধ্যে ব্যক্তি-সম্ভ্রম ও জাতীয় ঐক্য এবং সংহতি সুনিশ্চিত করে সৌভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলতে; আমাদের গণপরিষদে, আজ,১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর, এতদ্দ্বারা এই সংবিধান গ্রহণ করছি, বিধিবদ্ধ করছি এবং নিজেদের অর্পণ করছি।

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা