সবুজ মনের রসদ
Ichchhamoti Logo

অভাবের পথ চিনে যে মেয়েটি আজ বিশ্বমঞ্চে তির-ধনুক হাতে ভারতের নাম উজ্জ্বল করছে, তার গল্প কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়। মহারাষ্ট্রের অমরাবতীর এক অতি সাধারণ পরিবারে বড় হয়ে উঠছে ১৭ বছরের কিশোরী কুমকুম মোহদ। তার বাবা অনিল মোহদ মিষ্টির দোকানগুলোর জন্য কার্ডবোর্ডের বাক্স তৈরির কাজ করেন। সংসারের টানাটানির মধ্যেও মেয়ের স্বপ্নকে তাঁরা কখনো ম্লান হতে দেননি।

কুমকুম যখন প্রথম তির-ধনুক হাতে নেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে, তখন তার ঠাকুমা কুসুম নিজের জমানো ৩,০০০ টাকা তুলে দিয়েছিলেন নাতনির হাতে। সেই টাকা দিয়েই কেনা হয়েছিল কুমকুমের প্রথম সাধারণ কাঠের ধনুকটি। পরে সে যখন পেশাদার খেলায় পা বাড়ায়, তখন বাবা অনিল নিজের জমানো সঞ্চয় সম্বল করে একটি পুরোনো ‘সেকেন্ড-হ্যান্ড’ ধনুক কিনে দেন। দামি ও নতুন সরঞ্জামের অভাবে থেমে না থেকে সেই পুরোনো ধনুক নিয়েই বছরের পর বছর অনুশীলনে নামত কুমকুম। সে বলত—ধনুক নতুন না পুরোনো তা বড় কথা নয়, আসল কথা হলো মনের লক্ষ্য ও সাহস!

কোচ প্রবীণ ডাঙের অধীনে ভোর হতেই একাগ্র মনে অনুশীলনে ডুবে যেত কুমকুম। সাধারণ অলিম্পিক বা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ব্যবহৃত ‘রিকার্ভ’ ইভেন্টে খেলোয়ারদের কোনো আধুনিক পুলি বা যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই নিজেদের দৈহিক শক্তি দিয়ে ৭০ মিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে তির ছুড়তে হয়। সেই কঠিন রিকার্ভ আর্চারির প্রতিটি কৌশল সে রপ্ত করে নেয়। মোবাইলের মোহ, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা বন্ধুদের আড্ডা—এই বয়সের যা কিছু আকর্ষণ, তার সবকিছু থেকেই নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল সে।

সেই অদম্য সাধনার ফলও মিলেছে হাতেনাতে। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় ২০২৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২০তম এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ইতিহাস গড়েছে কুমকুম। প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে রিকার্ভ ইভেন্টে একক সোনা জিতে নেয় সে। শুধু তাই নয়, এই একই প্রতিযোগিতায় নারী দলের হয়ে সোনা এবং মিক্সড টিম ইভেন্টে রূপো অর্জন করে মোট তিনটি পদক এনে দিয়েছে দেশকে। চূড়ান্ত পর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বসেরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও অসামান্য স্নায়ুর চাপ সামলে এক ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে আনে এই কিশোরী।

আজও অমরাবতীর সেই ছোট ঘরে বসেই মিষ্টির বাক্স বানানোর কাজ করে চলেছেন তার বাবা। কিন্তু প্রতিবার কুমকুম পদক জিতলে তিনি এখন পাড়ার মিষ্টির দোকানে অর্ডার পাঠান আনন্দের উপহার बांटতে। কুমকুমের এই লড়াই প্রমাণ করে, খাঁটি লক্ষ্য আর জেদ থাকলে পুরোনো সরঞ্জাম কিংবা দারিদ্র্য—কোনো কিছুই স্বপ্নের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

আমরা, ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র রূপে গড়ে তুলতে সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে শপথগ্রহণ করছি এবং তার সকল নাগরিক যাতে : সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার; চিন্তা,মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম এবং উপাসনার স্বাধীনতা; সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জন ও সুযোগের সমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং তাদের সকলের মধ্যে ব্যক্তি-সম্ভ্রম ও জাতীয় ঐক্য এবং সংহতি সুনিশ্চিত করে সৌভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলতে; আমাদের গণপরিষদে, আজ,১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর, এতদ্দ্বারা এই সংবিধান গ্রহণ করছি, বিধিবদ্ধ করছি এবং নিজেদের অর্পণ করছি।

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা