
ভূমিকা: আমরা দুর্গাকে কীভাবে দেখি?
মা দুর্গাকে আমরা সাধারণত কীভাবে দেখি? দশ হাতে অস্ত্র, পায়ের কাছে মহিষাসুর, পাশে তাঁর চার সন্তান—লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিক, আর মুখে শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের ছাপ। এই রূপটি আমাদের কাছে এতটাই পরিচিত যে দুর্গা বলতে প্রথমেই এই ছবিটিই মনে পড়ে।তিনি শক্তির প্রতীক। হিন্দু ঐতিহ্যে দুর্গাকে তাই একজন শক্তিশালী দেবী হিসেবে দেখা হয়। মহিষাসুরকে বধ করার কারণে তিনি ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ নামে পরিচিত। তিনি তাঁর সন্তানদের রক্ষা করেন এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন। বহু শতাব্দী ধরে শিল্পীরা এই যুদ্ধরত দুর্গাকেই তাঁদের ছবিতে তুলে ধরেছেন।
১৮০০ শতকের একটি প্রাচীন পাহাড়ি মিনিয়েচার ছবিতে miniature painting-এ আমরা এমনই দুর্গাকে দেখতে পাই। সেখানে তিনি মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। ছবির গাঢ় লাল পটভূমি যুদ্ধের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। দুর্গা তাঁর অস্ত্র নিয়ে মহিষাসুরকে বধ করতে চলেছেন, আর দূরে মেঘের আড়ালে দেবতারা এই যুদ্ধের সাক্ষী হয়ে আছেন। এখানে দুর্গা মূলত একজন যোদ্ধা দেবী।
১৮০০ শতকের রঙিন চিত্রে মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গাপ্রায় কাছাকাছি সময়ে বাংলাতেও আঁকা হচ্ছিল দেবী দুর্গার এমনই রূপ । দুর্গার এমন অসুরদলনী ছবি এঁকেছেন কালিঘাটের পটশিল্পীরা। এমনই একটি পট রাখা আছে লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামে। ১৮৬০ সালে আঁকা এই ছবিতে যুদ্ধরত মা দুর্গার পাশে তাঁর ছেলেমেয়েদেরও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।


আবার পরবর্তী শতাব্দীতে নন্দলাল বসুও তাঁর নিজস্ব স্টাইলে মহিষাসুরমর্দিনীর এমনই এক ছবি এঁকেছিলেন। ১৯৪৯ সালে তাঁর আঁকা এই ছবিটির নাম Durga With Hallow of Fire
কিন্তু বাংলায় দুর্গার গল্প এখানেই শেষ হয় না।
বাংলার মানুষ দুর্গাকে শুধু একজন যুদ্ধরত দেবী হিসেবে দেখে না। শরৎকালে যখন দুর্গাপুজো আসে, তখন দুর্গা হয়ে ওঠেন ঘরের মেয়ে উমা। তিনি যেন কৈলাস থেকে নিজের বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তাঁর সঙ্গে আসে তাঁর চার সন্তান। এই গল্পে দুর্গা একই সঙ্গে দেবী, মেয়ে এবং মা।
আগমনী গানে তাঁর আসার আনন্দ ধরা পড়ে। আর বিজয়ার সময় তৈরি হয় বিষাদের আবহাওয়া। অর্থাৎ দুর্গার গল্পের মধ্যে আনন্দ ও বিষাদ, আসা ও চলে যাওয়া—দুই অনুভূতিই রয়েছে। এইভাবে দুর্গার পৌরাণিক সময় মেনে আগমন, বাংলার ঋতু, উৎসব এবং পারিবারিক জীবনের সঙ্গে মিশে যায়। দেবী আর শুধু দূরের কোনো স্বর্গীয় চরিত্র থাকেন না। তিনি আমাদের ঘরের মেয়ে হয়ে ওঠেন।

কলকাতা শহরের একটি মন্ডপে ঐতিহ্যবাহী মাটির দুর্গা প্রতিমা
শিল্প ইতিহাসবিদ তপতী গুহঠাকুরতার মতে, দুর্গার এই মাতৃরূপ ও যোদ্ধারূপের মিলন বাংলার দুর্গাপুজোর ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এবং এটি বহু শতাব্দী ধরে চলে আসছে। রুশ দার্শনিক ও সাহিত্য সমালোচক মিখাইল বাখতিনের ‘chronotope’ ধারণাটি আমাদের এই বিষয়টি আরো সহজ ভাবে বুঝতে সাহায্য করে। সহজভাবে বললে, ‘chronotope’ অনুযায়ী, কোনো চরিত্রকে বোঝার জন্য তার সময় এবং স্থান দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গার রূপকে শুধু একটি স্থির মূর্তি হিসেবে দেখলে এই পরিবর্তন বোঝা যায় না। তিনি কোথায় আছেন এবং কোন সময়ে আছেন, এই দুই বিষয় তাঁর রূপ ও আবেগকে বদলে দেয়। এই প্রবন্ধে তাই আমরা দেখবো, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুর্গার চেহারা, পোশাক, ভঙ্গি, আবেগ এবং তাঁর চারপাশের জগৎ কীভাবে বদলেছে। কখনও তিনি রাগী ও শক্তিশালী, কখনও শান্ত, কখনও স্নেহময়ী, আবার কখনও চিন্তিত বা অসহায়। দুর্গার এই বিভিন্ন রূপের মধ্যে দিয়ে বাঙালি সমাজের আনন্দ, দুঃখ, ভয়, আশা, পরিচয় ও পরিবর্তনের গল্পও প্রকাশ পায়।
যামিনী রায়ের দুর্গা: দেবী থেকে ঘরের মা
এই পরিবর্তনের গল্পে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী হলেন যামিনী রায়।
যামিনী রায়ের ছবিতে বাংলার লোকশিল্প এবং কালিঘাট পটচিত্রের প্রভাব খুব স্পষ্ট। তাঁকে প্রায়ই ‘Father of the Folk Renaissance in India’ বলা হয়। যামিনী রায়ের সময়ে শিল্পীদের মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন ছিল ভারতের আধুনিক পরিচয় কি শহরকেন্দ্রিক হবে, নাকি গ্রাম ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে তৈরি হবে? ১৯২০-এর দশক থেকে জাতীয় পরিচয়ের ধারণায় স্থানীয়তার গুরুত্ব বাড়তে থাকে। পার্থ মিত্র তাঁর বই, ‘The Triumph of Modernism’-এ এই প্রশ্নের কথা বলেছেন। তাঁর মতে, বিশ শতকের শুরুতে জাতীয়তার ধারণা ধীরে ধীরে সর্বভারতীয় ভাবনা থেকে স্থানীয় পরিচয়ের দিকে এগোচ্ছিল। এই পরিবর্তন শিল্পী ও লেখকদেরও প্রভাবিত করেছিল। দুর্গার ক্ষেত্রেও যামিনী রায় একটি বড় পরিবর্তন আনেন।
তাঁর দুর্গা তাই আগের ছবিগুলির দুর্গার মতো নন।আগের অনেক চিত্রে দুর্গাকে দেখা যায় সুন্দর রেশমি শাড়ি, ভারী অলংকার এবং অনেক সজ্জিত এক মহিমান্বিত দেবী হিসেবে। যামিনী রায় সেই জাঁকজমক অনেকটাই সরিয়ে দিলেন।তিনি দুর্গাকে সহজ করে তুললেন।তাঁর ছবির দুর্গা সাধারণ সুতির শাড়ি পরেন আটপৌরে বাঙালি মেয়েদের মতন। তাঁর গয়নাও খুব সাধারণ। তিনি আর দূরের কোনো রহস্যময় দেবী নন। তাঁকে দেখে মনে হয় যেন বাংলার কোনো ঘরের মা।

যামিনী রায়ের দুর্গা-চিত্রাবলি
এই পরিবর্তন শুধু ছবির সাজসজ্জায় ছিল না। এর পিছনে ছিল একটি সচেতন শিল্পভাবনা। যামিনী রায় বাংলার গ্রামীণ লোকশিল্পকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি উপনিবেশিক সময়ের শিল্পে দেখা অতিরিক্ত সাজসজ্জা ও পাশ্চাত্যধর্মী বাস্তবতার বদলে বাংলার নিজস্ব লোকশিল্পের সরলতা গ্রহণ করেছিলেন।তাই তাঁর দুর্গা যেন বলছেন: দেবী হতে গেলে সবসময় রাজকীয় পোশাক বা অসংখ্য গয়না দরকার হয় না।
আর তাঁর ছবির একটি বিশেষ বিষয় আরও চোখে পড়ে। গণেশ সেখানে দুর্গার কোলে বসে আছে। সাধারণত দুর্গার চার সন্তানকে তাঁর দুপাশে আলাদা আলাদা করে দেখা যায়। কিন্তু যামিনী রায় গণেশকে মায়ের কোলে বসিয়েছেন। এতে দুর্গার সঙ্গে তাঁর সন্তানের সম্পর্কটি খুব কাছের হয়ে ওঠে।এখানে দুর্গা শুধু যোদ্ধা নন। তিনি একজন মা।তাঁর মুখে যুদ্ধের জন্য জরুরী রাগের চেয়ে মায়ের স্নেহ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এইভাবে যামিনী রায় দুর্গাকে বাংলার ঘরোয়া জীবনের সঙ্গে যুক্ত করেন। দেবী আর দূরে থাকেন না। তিনি আমাদের পরিচিত একজন মায়ের মতো হয়ে ওঠেন।
বিকাশ ভট্টাচার্যের দুর্গা: ভয় এবং ভাঙনের গল্প
এরপর আমাদের গল্প অনেকটা বদলে যায়।
সময়টা ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে। ভারত, বিশেষ করে বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি তখন খুব অস্থির। নকশাল আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে ‘জরুরী অবস্থা/ ইমারজেন্সি’ (Emergency)-এর সময়ের দমন ও ভয়ের পরিবেশ মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
এই সময়ে এক অন্যরকম দুর্গাকে আমরা দেখতে পাই বিকাশ ভট্টাচার্যের দুর্গা সিরিজ (Durga Series)-এ। এখানে দুর্গা আর আগের মতো শান্ত, সুন্দর বা আশ্বাস দেওয়া দেবী নন। তিনি যেন শহরের ভাঙাচোরা বাস্তবতার মধ্যে আটকে পড়েছেন। বিকাশ ভট্টাচার্য দুর্গাকে সাধারণ নারীর শরীরের মধ্যে কল্পনা করেন। এই দুর্গার মুখ নিখুঁত বা পুরনো ছবিগুলির মত সুন্দর নয়, বরং সাধারণ মেয়েদের মত। এই দুর্গাদের চোখের দৃষ্টিতে আনন্দ বা বরাভয় নেই, বরং তাঁদের চোখের কোলে কালি। মুখে ভয় ও অস্বস্তির ছাপ। এখানে মায়ের মুখের সেই পরিচিত শান্তি নেই। দেবীর মুখ থেকে যেন ইচ্ছা করেই মাতৃত্বের কোমলতা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।এই দুর্গা ধ্বংস ও অবক্ষয়ের নীরব সাক্ষী। দর্শক এখানে দুর্গাকে দেখে আনন্দ বা সান্ত্বনা পান না। বরং তাঁরা ভয়, অস্বস্তি এবং অসহায়তার মুখোমুখি হন।

বিকাশ ভট্টাচার্যের দুর্গা সিরিজ
এখানে আবার chronotope গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ এই দুর্গাকে বোঝার জন্য তাঁর চারপাশের সময় ও স্থানকে বোঝা জরুরি। নকশাল আন্দোলন এবং ইমারজেন্সি-এর সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, হিংসা এবং নজরদারির পরিবেশ তাঁর ছবির ভিতর ঢুকে পড়ে। এই ছবিগুলিতে দুর্গার তৃতীয় চোখ বা ত্রিনয়ন বিশেষভাবে চোখে পড়ে। এটিকে এক ধরনের ‘reverse surveillance ‘ বা উলটো নজরদারি হিসেবেও দেখা যায়। সহজভাবে বলতে গেলে, মনে হয়, যেন দেবী দুর্গা মানুষের তৈরি ভয় ও নজরদারির জগৎের মধ্যে উপস্থিত হয়ে, অন্য সাধারণ মানুষের মতই চারিদিকে নজর রাখছেন, খেয়াল রাখছেন চারদিকে কী ঘটে চলেছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে:
দুর্গা যদি আর শুধু শক্তিশালী দেবী না হয়ে একজন অসহায় সাধারণ নারীর মতো হয়ে ওঠেন, তাহলে কী ঘটে?
ভট্টাচার্যের ছবির দুর্গার মাধ্যমে এই প্রশ্নটি সামনে আসে।যে দুর্গার মাটির প্রতিমা এতদিন মানুষকে আনন্দ, উৎসব ও আশ্বাস দিয়েছে, সেই দুর্গাই এখানে প্রাণহীন ও পরাজিত মনে হয়। এর মধ্যে দিয়ে ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি মানুষের হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাসের কথাও প্রকাশ পায়।
আনন্দমেলা: দুর্গা যখন ছোটোদের বন্ধু
এরপর আমরা আরও একটু সময় এগিয়ে আসি।
এবার দুর্গা যুদ্ধক্ষেত্রে নেই। তিনি কোনো লড়াই করে ক্লান্ত শহরেও নেই।
তিনি আছেন একটি পত্রিকার প্রচ্ছদে।বাংলার জনপ্রিয় শিশু-কিশোর পত্রিকা আনন্দমেলার পূজাবার্ষিকী সংখ্যার প্রচ্ছদে দুর্গাকে একেবারে অন্যভাবে দেখা যায়। এখানে দুর্গা ছোটোদের কাছে পরিচিত এবং একেবারে কাছের একজন দেবী। তিনি আর দূরের, ভয়ংকর বা রাগী কোনো চরিত্র নন। প্রতিবারই তাঁকে তাঁর ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নতুন সাজে, নতুন সব উপায়ে আনন্দ করতে দেখা যায়।
এই পরিবর্তনকে বুঝতে হলে মনে রাখতে হবে, আনন্দমেলার প্রধান পাঠকদের মধ্যে বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশু ও কিশোররা রয়েছে। তাই প্রচ্ছদের দুর্গাকেও এমনভাবে দেখানো হয়, যাতে অল্পবয়সী পাঠকেরা তাঁর সঙ্গে সহজে সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।

আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকীর কিছু প্রচ্ছদ
পুজোর বার্ষিক সংখ্যাটি সাধারণত পুজোর আগে আগে প্রকাশিত হয়। তাই এটি শুধু একটি পত্রিকা নয়। এটি যেন ‘পুজো আসছে’, এই খবরটি মনে করিয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম। দুর্গাকে এখানে আধুনিক মায়েদের মত সাজপোষাকে দেখা যায়। তিনি যেন আরেকজন বাঙালি মা। এমন দুর্গাকে দেখে ভয় পাওয়ার বদলে ছোটোরা খুশি হয়ে ওঠে।
তাঁর সন্তানদের পোশাকও বদলে যায়। লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিককে আধুনিক বা ‘ট্রেন্ডি’ পোশাকে দেখা যায়। ফলে পুরো পরিবারটিই আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এখানে পুরনো পৌরাণিক গল্পটিও নতুনভাবে বলা হয়। বাঙালি সংস্কৃতিতে পঞ্জিকা থেকে জানা যায়, কোন বছর দুর্গা কোন পথে মর্ত্যে আসবেন—স্থলপথে, জলপথে নাকি আকাশপথে।আনন্দমেলার প্রচ্ছদ এই গল্পটিকে আধুনিক করে তোলে। দুর্গাকে কখনও নৌকায়, কখনও ঘোড়ার গাড়িতে, কখনও অন্য আধুনিক যানবাহনে দেখা যায়।

একটি প্রচ্ছদে দুর্গা তাঁর পরিবারের সঙ্গে একটি জেট বোটে যাচ্ছেন। এতে বোঝানো হয় যে সেই বছর তিনি জলপথে আসছেন।
আরও মজার বিষয় হলো, জনপ্রিয় কিছু কার্টুন চরিত্রকে পৌরানিক দেবদেবীর বাহনরূপে দেখানো হয়েছে। যেমন, মিকি মাউস গণেশের ইঁদুরের কথা মনে করিয়ে দেয় এবং ‘ দ্য লায়ন কিং’ (The Lion King)-এর সিম্বা দুর্গার সিংহের প্রতীক হয়ে ওঠে। ডোনাল্ড ডাক সরস্বতীর হাঁসের কথা মনে করিয়ে দেয়। ছোট পেঁচা লক্ষ্মীর বাহন এবং ময়ূর কার্তিকের বাহনকে বোঝায়।

আর একটি ছবিতে দুর্গা ঘোড়ার গাড়ি থেকে নামছেন। পিছনে দেখা যাচ্ছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। এখানে কলকাতার বাস্তব শহর এবং দুর্গার পৌরাণিক গল্প একসঙ্গে মিশে যায়। এইভাবে পৌরাণিক এবং আধুনিক জগৎ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়।এটি পুরনো বিশ্বাসকে নষ্ট করে না। বরং ‘ ডিফ্যামিলিয়ারাইজেশন’ ‘defamiliarization’ বা পরিচিত জিনিসকে নতুনভাবে দেখানোর মাধ্যমে পুরনো গল্পকে নতুন করে অনুভব করার সুযোগ তৈরি করে। ছোটোরা তাই একই সঙ্গে দুর্গাকে দেবী হিসেবেও দেখতে পারে, আবার তাঁকে নিজেদের পরিচিত জগৎের একজন মানুষ হিসেবেও কল্পনা করতে পারে।
Joyeeta Joyart এবং Sentur Kartoon: দুর্গা যখন ডিজিটাল জগৎে
এবার আমাদের গল্প পৌঁছে যায় একেবারে বর্তমান সময়ে। দুর্গা আর শুধু মন্দির, প্যান্ডেল, বই বা ক্যানভাসে নেই। তিনি এখন আমাদের ফোনের পর্দায়।
ইন্স্টাগ্রাম নির্ভর একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হল Joyeeta Joyart যেখানে শিল্পী জয়ীতা তাঁর হাতে আঁকা ছবি এবং সেই ছবির ডিজিটাল রূপ তুলে ধরেন। তাঁর শিল্পে যামিনী রায় এবং কালিঘাট পটচিত্রের প্রভাব দেখা যায়।তবে তিনি এই পুরনো শিল্পভাষাকে নতুন সময়ের ভাবনার সঙ্গে মিলিয়ে দেন। উজ্জ্বল রঙ এবং মোটা তুলির টানে তিনি ক্যানভাস এবং ডিজিটাল, দুই মাধ্যমেই কাজ করেন।

তাঁর দুর্গা প্রচলিত দুর্গার ছবি থেকে আলাদা। জয়ীতার ছবিতে দুর্গার গায়ের রঙ ফরসা বা সোনার বরণ নয়, বরং বেশিরভাগ সাধারণ ভারতীয় মেয়েদের মত উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ। একই সঙ্গে তাঁর দেহ প্রচলিত মূর্তি বা মডেলদের মত নয়, বরং তিনি একটু মোটাসোটা। জয়ীতার ছবিগুলির মধ্যে দিয়ে ‘body positivity’ এবং ‘brown femininity’-এর মতো সমকালীন ধারণা উঠে আসে। দুর্গা হয়ে ওঠেন নারীবাদী সংহতি, লিঙ্গসমতা এবং প্লাস-সাইজ নারীদের প্রতিনিধিত্বের একটি প্রতীক।তাঁর একটি ছবিতে আমরা আরও একটি বড় পরিবর্তন দেখতে পাই।

সাধারণত দুর্গার হাতে উঁচিয়ে ধরা ত্রিশূল শক্তি, যুদ্ধ এবং ন্যায়ের প্রতীক। কিন্তু জয়ীতার ছবিতে দুর্গা ত্রিশূল নিচু করে একটি ফুটন্ত পদ্ম তুলে ধরেছেন।পদ্ম এখানে পবিত্রতা, শান্তি এবং নতুন শুরুর প্রতীক। তাই দুর্গার এই রূপ যুদ্ধের বদলে শান্তির কথা বলে। রক্তপাতের বদলে অহিংসার কথা বলে।
ডিজিটাল জগৎ দুর্গার জন্য আরও একটি নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। আগে দুর্গার আগমন ও বিদায় মূলত পুজোর সময় এবং প্যান্ডেলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিংবা দুর্গাঠাকুরের ছবি বা মূর্তি থাকত মন্দিরে বা বাড়ির ঠাকুরের আসনে। আর তাঁকে দেখা যেত পূজাবার্ষিকীর মলাটে। কিন্তু এখন তাঁর ছবি সারা বছর মানুষের ফোনে থাকতে পারে। তিনি Instagram feed-এ আসতে পারেন, wallpaper হতে পারেন, share করা যায়, নিজের পছন্দমতো ব্যবহার করা যায়।অর্থাৎ দুর্গার ছবি বা দুর্গা ঠাকুর নিজেই আর একটি নির্দিষ্ট সময় বা জায়গায় আটকে নেই।তাঁর ছবি আর তাঁর বিভিন্ন রূপ, আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে।এভাবে দুর্গার পুরনো, স্থানীয় এবং পৌরাণিক রূপ একটি নতুন ডিজিটাল ও বৈশ্বিক রূপ পেয়েছে।
এর আরেকটি উদাহরণ আমরা দেখতে পাই Sentoor Kartoon ওয়েবসাইটে। এই সংস্থা নানারকমের কার্টুন ও অ্যানিমেশন নির্মাণ করেন। একই সঙ্গে ঘর সাজানোর নানা শৌখিন জিনিস তৈরি করেন। এঁদের বেশ কিছু কাজে রয়েছে দুর্গা প্রতিমার আধুনিক উপস্থাপন। নিচের ছবিতে দেখা যায়, দুর্গা তাঁর চার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ফুচকা খাচ্ছেন, আর ফুচকাওয়ালার ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে অসুরকে। অসুরের মুখে স্পষ্ট উদ্বেগ—যেন এই বুঝি দুর্গা তাঁর দিকে তেড়ে এলেন!

মা দুর্গাকে এই নতুন রূপে দেখতে বেশ লাগে। ছবিটি দেখলেই মনে হয়, এটি যেন বাঙালির ঘরে ঘরে ঘটে চলা এক পরিচিত ও আনন্দময় মুহূর্তকে ধরে রেখেছে। এখানে দুর্গা আর কেবল দূরের কোনো দেবী নন; তিনি হয়ে উঠেছেন আমাদেরই একজন; একজন বাঙালি মা, যিনি অন্য সকলের মতো পরিবারের সঙ্গে কলকাতার রাস্তায় ফুচকা খেতে ভালোবাসেন।

Sentoor Kartoon-এর তৈরি দুর্গাকে নিয়ে আরও কিছু ছবি, যা দেওয়ালে ঝোলানো যায়

ফ্রিজ ম্যাগনেটে দুর্গা
এই উপস্থাপনার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় বেশ মজার। প্রথমত, দুর্গা আজ বাঙালির রোজকার জীবন যাপনের নানা উপকরণের মধ্য দিয়ে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করেছেন; খাতার কভার, দেওয়ালের ছবি, প্রিন্টেড কফি মগ, ফ্রিজ ম্যাগনেট কিংবা টি-শার্টের মতো সাধারণ জিনিসে তাঁর উপস্থিতি তাঁকে প্রতিদিনের জীবনেরই একটি অংশ করে তুলেছে। দ্বিতীয়ত, দুর্গার ফুচকা খাওয়ার বা ধান ভানার দৃশ্যগুলি তাঁকে বাঙালির নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গেও যুক্ত করে। অর্থাৎ, তিনি কেবল পূজার মণ্ডপে অধিষ্ঠিত কোনো দেবী নন; তিনি বাঙালির সংস্কৃতি ও পারিবারিক পরিসরেরও অংশ।
এইভাবে জাতি, শ্রেণি, লিঙ্গ কিংবা খাদ্যাভ্যাসের মতো পরিচয়ের বিভিন্ন সীমারেখা অতিক্রম করে দুর্গা মানুষের জীবনে এবং কল্পনায় একটি ঘনিষ্ঠ স্থান তৈরী করে নিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে ‘মা’ এবং বাঙালি গৃহস্থ জীবনের এক পরিচিত প্রতিচ্ছবি। ফলে তাঁর উপস্থিতি কেবল ধর্মীয় পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সাধারণ মানুষের জীবনেও তিনি নিজের জন্য একটি স্বাভাবিক ও সমান গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করে নেন।
উপসংহার
আমাদের এই ছোটো আলোচনায় বাংলার আরও নানা প্রখ্যাত শিল্পীদের কাজ বা গবেষকদের ভাবনা তুলে আনা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে নিশ্চয় এমন আরও আলোচনার সুযোগ আমরা পাব।
আমরা মাত্র কয়েকজনের কাজ নিয়েই অল্প আলোচনা করেছি এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা শিল্পে দেবী দুর্গার রূপবদলের বিষয়টিকে বোঝার চেষ্টা করেছি।
এখন যদি আমরা পুরো যাত্রাটির দিকে ফিরে তাকাই, তাহলে দেখতে পাই দেবী দুর্গাকে সমাজ কখনওই একই রকম ভাবে দেখে নি।
প্রথমে তিনি ছিলেন পৌরাণিক যুদ্ধক্ষেত্রের শক্তিশালী দেবী।
তারপর বাংলার আগমনী গানের সুরে তিনি হয়ে উঠলেন সপরিবারে বাপের বাড়ি ফেরা মেয়ে উমা।
যামিনী রায় তাঁকে নিয়ে এলেন বাংলার ঘরে। তাঁর কোলে বসল গণেশ। দুর্গা হয়ে উঠলেন একজন স্নেহময়ী মা।
বিকাশ ভট্টাচার্যের ছবিতে আবার সেই দুর্গাই বদলে গেলেন। তিনি হয়ে উঠলেন ভয়, মৃত্যু, শহরের ভাঙন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সাক্ষী।
আনন্দমেলার প্রচ্ছদে তিনি আবার হাসলেন। সন্তানদের সঙ্গে ঘুরলেন, নৌকায় উঠলেন, ঘোড়ার গাড়িতে চড়লেন। তিনি শিশুদের পরিচিত হয়ে উঠলেন।
আধুনিক যুগে তিনি Joyeeta’s Joyart এর মাধ্যমে ফোনের পর্দায় এসে পৌঁছেছেন। তিনি শান্তির কথা বলেন, নিজের চেহারাকে ভালোবাসার করার কথা বলেন এবং নতুন ধরনের নারীবাদের প্রচার করেন। Sentoor Kartoon -এ অসুরের সঙ্গে যুদ্ধের বদলে দুর্গার সহজ সম্পর্কের ছবি ফুটে ওঠে — এখানে অসুর কখনও রিকশাওয়ালা, কখনও কুলি বা ফুচকাওয়ালা। দুজনের মধ্যে যুদ্ধ হওয়ার উপায়ও নেই, প্রয়োজন ও নেই।
অর্থাৎ দুর্গার ছবি বারবার বদলেছে।কখনও তাঁকে আরও বেশি দেবী করে তোলা হয়েছে। কখনও তাঁকে মানুষের কাছাকাছি আনা হয়েছে। আবার কখনও তাঁকে নতুনভাবে দেবীর রূপ দেওয়া হয়েছে।তবুও একটি বিষয় একই থেকেছে: দুর্গা নিজেকে বদলাতে পারেন।সময় বদলালে তাঁর পোশাক বদলায়, তাঁর মুখের ভাব বদলায়, তাঁর চারপাশের জায়গা বদলায়, এমনকি তাঁর অস্ত্রও বদলে যায়। কিন্তু প্রতিবারই তিনি তাঁর সময়ের মানুষের কথা বলেন।
তপতী গুহঠাকুরতা বলেছেন, বর্তমানের দুর্গাপুজোয় ‘the sacred with the profane’, অর্থাৎ পবিত্রের সঙ্গে সাধারণ বা দৈনন্দিন জীবনের মিশ্রণ দেখা যায়। দুর্গার এই বদলে যাওয়া রূপও সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।দেবী দুর্গা আর শুধু মন্দিরে বা মন্ডপে আটকে নেই। সারাবছর তিনি আমাদের ঘরে, বইয়ের পাতায়, ছবিতে, পত্রিকার প্রচ্ছদে, বাজারে এবং ফোনের পর্দায়ও আছেন।
তাই দুর্গার গল্প আসলে শুধু একজন দেবীর গল্প নয়।এটি বাঙালি সমাজেরও গল্প, আমাদের আনন্দের, ভয়ের, দুঃখের, স্মৃতির, পরিবর্তনের এবং নতুন কিছু তৈরি করার গল্প।
সময় বদলায়। সমাজ বদলায়। মানুষের ভাবনা বদলায়।
আর সেই সঙ্গে দুর্গাও নতুন নতুন রূপে আমাদের কাছে ফিরে আসেন।
******
এই আলোচনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী ও গবেষকদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এবং কিছু তাত্ত্বিক ধারণা নিয়েও কথা বলা হয়েছে। এই সমস্ত মানুষদের পরিচিতি এবং ধারণাগুলির বিষয়ে নিচে সংক্ষেপে দেওয়া হল।
গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী ও গবেষকরা:

যামিনী রায় (১১ এপ্রিল ১৮৮৭-২৪ এপ্রিল ১৯৭২)
যামিনী রায় ছিলেন ভারতের একজন বিখ্যাত আধুনিক শিল্পী। তিনি অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম পরিচিত ছাত্র ছিলেন। পরে তিনি পাশ্চাত্য শিল্পের ধারা থেকে সরে এসে বাংলার লোকশিল্প, পটচিত্র এবং গ্রামীণ শিল্প থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নিজের আলাদা ছবি আঁকার ধরন তৈরি করেন। তাঁর ছবিতে সহজ রেখা, উজ্জ্বল রং এবং সরল আকারের ব্যবহার দেখা যায়।

বিকাশ ভট্টাচার্য (২১ জুন ১৯৪০-১৮ ডিসেম্বর ২০০৬)
বিকাশ ভট্টাচার্য একজন বিখ্যাত ভারতীয় চিত্রশিল্পী ছিলেন। কলকাতার রাজনৈতিক পরিবেশ তাঁর শিল্পকে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর ছবিতে মধ্যবিত্ত বাঙালির জীবন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভিন্ন সামাজিক বিষয় ফুটে উঠেছে। তিনি photo-realist ও surrealist ধারায় ছবি আঁকতেন।

জয়ীতা
জয়ীতা নিজেকে একজন চিত্রশিল্পী, ইলাস্ট্রেটর ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে পরিচয় দেন।ছোটবেলা থেকেই তিনি ছবি আঁকা ভালোবাসতেন এবং পরে এটিকেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন। তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন Indian College of Arts and Craftsmanship থেকে B.F.A. ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর শিল্পকর্ম প্রথমে মূলত তাঁর ইনস্টাগ্রাম পেজের মাধ্যমে মানুষের নজরে আসে। পরে তিনি বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ব্যক্তিগত ক্রেতার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে শিল্পজগৎের একজন পরিচিত শিল্পী।

তপতী গুহঠাকুরতা
তপতী গুহঠাকুরতা একজন ভারতীয় ইতিহাসবিদ, যিনি ভারতের শিল্প ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য বইগুলির মধ্যে রয়েছে The Making of a New ‘Indian’ Art: Artists, Aesthetics and Nationalism in Bengal, Monuments, Objects, Histories: Institutions of Art in Colonial and Postcolonial India এবং In the Name of the Goddess: The Durga Pujas of Contemporary Kolkata।

পার্থ মিত্র
পার্থ মিত্র একজন লেখক ও শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসবিদ। তিনি মূলত ভারতীয় শিল্পের পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা, ভারতের আধুনিকতা, শিল্প ও পরিচয় এবং বিশ্ব আধুনিকতাবাদ নিয়ে কাজ করেছেন।তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই হলো: Much Maligned Monsters: A History of European Reactions to Indian Art, Art and Nationalism in Colonial India 1850-1922: Occidental orientations, The Triumph of Modernism: India’s artists and the avant-garde – 1922-1947

মিখাইল বাখতিন (১৭ নভেম্বর ১৮৯৫-৭ মার্চ ১৯৭৫)
মিখাইল মিখাইলোভিচ বাখতিন একজন রুশ দার্শনিক ও সাহিত্য সমালোচক ছিলেন। তিনি ভাষার দর্শন, নীতিশাস্ত্র এবং সাহিত্যতত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছেন।
ধারণা / গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:
• নকশাল আন্দোলন (১৯৬৭–১৯৭৪): পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে নকশালবাড়ি গ্রামে ধনী জমিদার ও জোতদারদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে গরিব চাষিরা একজোট হয়ে এক আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলনকে পথ দেখিয়েছিলেন চারু মজুমদার ও কানু সান্যাল। নকশালবাড়ি গ্রাম থেকে শুরু হয়েছিল বলে এই আন্দোলন ক্রমে 'নকশাল আন্দোলন' নামে পরিচিত হয়। এই আন্দোলনের ফলেই সারা দেশের মানুষ প্রথমবার বুঝতে পারে যে গরিব চাষিরা কতটা কষ্টে আছেন।
• জরুরী অবস্থা / Emergency (১৯৭৫-১৯৭৭): ১৯৭৫ সালে দেশের তখনকার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী হঠাৎ করে সারা দেশে খুব কড়া কিছু নিয়ম চালু করেন। এই সময়টাকেই ভারতের ইতিহাসে 'জরুরি অবস্থা' বা Emergency বলা হয়। এই সময়ে সাধারণ মানুষ সরকারের কোনো সমালোচনা করতে পারত না; খবরের কাগজগুলিরও স্বাধীনতা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বহু মানুষকে বিনা কারণে বা সরকারের কাজের সমালোচনা করেছিল বলে জেলে আটকে রাখা হয়েছিল। এই পরিস্থিতি চলে প্রায় ২১ মাস। অবশেষে ১৯৭৭ সালে আবার ভোট হয়। মানুষ দেশে নতুন সরকার আনে। নতুন সরকার এইসব কড়াকড়ি বাতিল করে।
• ক্রোনোটোপ (Chronotope): সাহিত্যতত্ত্ব ও ভাষার দর্শনে ক্রোনোটোপ (Chronotope) বলতে কোনো গল্প বা লেখায় সময় ও স্থান কীভাবে একসঙ্গে প্রকাশ পায়, তা বোঝায়। মিখাইল বাখতিন এই ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণভাবে ব্যবহার করেন। তাঁর মতে, সাহিত্য ও ভাষায় অর্থ তৈরিতে সময় ও স্থানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
• Reverse Surveillance: রিভার্স সার্ভেইলেন্স সাধারণ মানুষ বা নাগরিকদের দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষমতাবান ব্যক্তি, কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ ও রেকর্ড করার প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
• Feminism: ফেমিনিজম এমন একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন ও চিন্তাধারা, যার লক্ষ্য নারী ও পুরুষের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ব্যক্তিগত ও সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা করা।
• Body Positivity: বডি পজিটিভিটি হলো এমন একটি সামাজিক আন্দোলন ও চিন্তাধারা, যেখানে শরীরের আকার, গঠন, গায়ের রং, লিঙ্গ বা শারীরিক সক্ষমতা যেমনই হোক, সব ধরনের শরীরকে গ্রহণ, সম্মান ও মূল্য দেওয়ার কথা বলা হয়।
• Brown Femininity: ব্রাউন ফেমিনিনিটি বলতে বাদামি ত্বকের নারীদের জীবনযাপন, সৌন্দর্য ও আত্মপরিচয়ের নানা দিককে বোঝায়। এটি এমন সৌন্দর্যের ধারণাকে প্রশ্ন করে, যেখানে ফর্সা ত্বককে বেশি সুন্দর মনে করা হয় এবং বাদামি ত্বকের নারীদের নির্দিষ্ট কিছু ধারণা বা পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
ছবিগুলি সংগ্রহ করা হয়েছে বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং ইন্স্টাগ্রাম চ্যানেল থেকে

