সবুজ মনের রসদ
Ichchhamoti Logo

জঙ্গলের ভিতরের খবর সবাই চাইলেও জানতে পারে না। কিন্তু কেউ কেউ পারে! তারা সেই খবর আমাদের কাছে পৌঁছে দেয়। উঁহু, তাদের পরিচয় জনসমক্ষে আনা বারণ।

ছোটবেলা থেকে প্রায় সবাই জেনে এসেছে বনের রাজা সিংহ। কিন্তু আসল দুনিয়ায় বনের রাজা এভাবে বেছে নেওয়া হয় না। কত বনে সিংহই নেই। উত্তর-পূর্ব ভারতে বিভিন্ন অভয়ারণ্যে মানুষের কাছে একশৃঙ্গ গণ্ডারই মূল আকর্ষণ। যেন মনে হয় ঐসব বনে একশৃঙ্গ গণ্ডারই রাজা। আবার মহানন্দা অভয়ারণ্য এরকমই এক বন যেখানে একশৃঙ্গ গণ্ডারের দেখাই পাওয়া যায় না।

মহানন্দা অভয়ারণ্য (Mahananda Wildlife Sanctuary) উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জেলায়, হিমালয়ের পাদদেশ ও তিস্তা-মহানন্দা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষিত বনাঞ্চল।

প্রায় ১৫৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই অভয়ারণ্যটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫০০ ফুট (সুকনা) থেকে শুরু করে ৪,৩০০ ফুট (লাটপাঞ্চার) উচ্চতা পর্যন্ত ছড়ানো। এই বিশাল বৈচিত্র্যের কারণে এখানে সমতলীয় ও পাহাড়ি—উভয় ধরনের ইকোসিস্টেম দেখা যায়। এটি বহু দুর্লভ ও সংকটাপন্ন প্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসস্থল। এখানে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, চিতা, হিমালয়ী কালো ভাল্লুক, মায়া হরিণ, সজারু, ভল্লুক-বিড়াল (Binturong) এবং বিশেষ করে গাছপ্রিয় মেঘলা চিতাবাঘ (Clouded Leopard) ও টুপিওয়ালা হনুমান (Capped Langur) বাস করে। বিশ্বজুড়ে এটি পাখিপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এখানে ২৪০-এর বেশি প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়, যার মধ্যে বিলুপ্তপ্রায় রুফাস-নেকড হর্নবিল (Rufous-necked Hornbill), গ্রেট হর্নবিল, র‍্যাকেট-টেইলড ড্রঙ্গো এবং নানা জাতের ফ্লাইক্যাচার অন্যতম। এই অভয়ারণ্য ভারতের একটি অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক হাতি করিডোর। নেপাল, উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স এবং আসামের মধ্যে ভারতীয় হাতিদের অবাধ চলাচলের জন্য এই বনাঞ্চলের ভূমিকা অপরিসীম।

বনাঞ্চলটিতে ক্রান্তীয় আর্দ্র-চিরহরিৎ ও পর্ণমোচী গাছের প্রাচুর্য রয়েছে। এর সর্বোচ্চ পয়েন্ট 'লাটপাঞ্চার' অঞ্চলটি সিঙ্কোনা চাষের জন্য বিখ্যাত।

মহানন্দা অভয়ারণ্যের ব্যাপারে আশা করি মোটামুটি একটা ধারণা পাওয়া গেছে। এবার সেই দুপুরের কথা বলি যার কথা সবে সবে আমাদের কানে এসেছে। একটি রবিবার দুপুরে যখন এই অরণ্যে বন্যপ্রাণীরাও আলসেমির সঙ্গে একটু জিরিয়ে নিচ্ছে ঘুম ঘুম চোখে, ঠিক তখনই একপাল হরিণ বনের মধ্যে হুটোপাটি, ছুটোছুটি করে সব প্রাণীদের জাগিয়ে তুলতে লাগলো। এমনকি চিতাবাঘদের কাছে গিয়েও তারা চিতাবাঘদের ব্যস্ত করে তুললো, কিন্তু আশ্চর্যরকমভাবে চিতাবাঘরা কোনও হরিণকে আক্রমণ করার কথা ভাবলোই না।
এর পেছনে বনের এক অলিখিত নিয়ম আছে। যখনই বনের মধ্যে জরুরি মিটিং ডাকা হয়, তখন কোনও প্রাণীই অন্য প্রাণীকে আক্রমণ করে না। আর হরিণের পাল একটি জরুরি মিটিংয়ের জন্যই সব প্রাণীদের ডাকতে এসেছিল।

মহানন্দা অভয়ারণ্যের গহীনে অনেক প্রাণীরা উপস্থিত হয়েছে। হাতিদের পাল, বাইসন, চিতাবাঘ, গেছো চিতাবাঘ, সম্বর, সজারু, হিমালয়ের কালো ভাল্লুক, সোনালি বিড়াল, মেছো বিড়াল, কাঁকড় হরিণ, বিনতুরাং, অসমীয়া বানর, বন্য শূকর, নানা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মাঝে আলো করে বসে রয়েছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, এই বনের অঘোষিত রাজা। বেশ কিছু পাখিরাও এসে জুটেছে। সবাই একটা বেশ বড় জায়গার মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে আছে। নানারকম আলোচনা করছে নিজেদের মধ্যে, কেউই জানে না ঠিক আসলে কেন এই মিটিং ডাকা হয়েছে। প্রথমে গলা দিয়ে একটা ঘরঘর শব্দ বের করে তারপর একটা বেশ জোরে হালুম গর্জন বের করলো বনের রাজা। সবাই চুপচাপ হলো। বাঘমশাই যখন কথা বলতে শুরু করলো, যেন মনে হলো তার গলায় কেমন একটি হতাশার সুর…

“খুব ভালো কিছু খবর নয়, তবে গুরুতর একটি খবর। সবাই একটু রোসো। তোমরা জানোই এই রাজ্যে নতুন বনমন্ত্রী হয়েছে।”
মেছো বিড়াল ফুট কাটলো, “শুধু বনমন্ত্রী নয়, রাজ্যে সব মন্ত্রীই নতুন। নতুন দল সরকার গড়েছে কিনা।”
বনের রাজা একটু বিরক্ত হলো। “আহ্, বাকিদের নিয়ে কাজ নেই। বনমন্ত্রী ও পরিবেশমন্ত্রী কী করছে সেটুকু খবর রাখলেই আমাদের চলে যাবে। যাই হোক, আর কেউ ব্যাঘাত ঘটিয়ো না। আগে যেটুকু দরকারি, বলে নিই।”
একটু থেমে বলতে শুরু করলো আবার। “নতুন বনমন্ত্রী কাল বা পরশু এই মহানন্দা অভয়ারণ্যে এসেছিলেন। আর তিনি বলেছেন ইকো সেনসিটিভ জোনের পরিধি পাঁচ কিলোমিটার থেকে কমিয়ে এক কিলোমিটার করা হবে। ইকো সেনসিটিভ জোন হলো আমাদের স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর জন্য যে এলাকা আছে, যেখানে মানুষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত, যেখানে মানুষ কোনও বাণিজ্যিক কার্যকলাপ বা শিল্প স্থাপন করতে পারবে না সেই এলাকা। তাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আমাদের জীবনযাত্রা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, ঝুঁকিপূর্ণ হবে, এমনকি প্রায়ই আমাদের কারোর না কারোর প্রাণ সংশয় হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। এই ব্যাপারটিই সবাইকে জানানোর ছিল।”

সবার মুখচোখ দেখে বোঝা যায় তারা বেশ হতভম্ব, স্তম্ভিত। সবাই কী বলবে বুঝে উঠতে পারছে না। কিছুক্ষণ সবাই চুপ থাকার পর প্রথমে চিতাবাঘ কথা বললো, “এমনিতেই অন্যান্য অভয়ারণ্যে বাফার জোন ১০ কিমি বা তার বেশি থাকে, এখানে পাঁচ কিমি ছিল, সেটাও কমিয়ে দিচ্ছে, তায় আবার মোটে এক কিমি!”
এটা শুনে অসমীয়া বানর বললো, “শুধু এখানে নয়, অনেক জায়গাতেই কমিয়ে দিচ্ছে। কাজিরাঙায় ইকো সেনসিটিভ জোন ১০ কিমি ছিল, সেখানেও সরকার সেটাকে কমিয়ে এক কিমি করে দেওয়ার ঘোষণা করেছে।”
হাতিদের পালের মধ্যে থেকে একটি বড় হাতি বললো, “মানুষরা, যারা আমাদের ভালোবাসে, তারা কিছু করছে না? সবাই মেনে নিচ্ছে?”
অসমীয়া বানর উত্তর দিলো, “না, বেশ কিছুজন প্রতিবাদ করেছে, করছে। যেমন কাজিরাঙা অভয়ারণ্যের কাছে একটি প্রস্তাবিত বিলাসবহুল ফাইভ-স্টার হোটেল প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায় এবং কৃষকরা প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। এই প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে গত ১২ জুলাই প্রণব দলে নামে একজন আদিবাসীকে আসাম পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সেশনস কোর্ট সরকারের ভর্ৎসনা করে প্রণব দলেকে জামিন দেয়। কিন্তু জামিন পাওয়ার ঠিক একদিন পরেই আসাম সরকার তাকে 'জাতীয় নিরাপত্তা আইন'-এর অধীনে আটক করে।”
হরিণের দল বলে ওঠে, “পরিবেশ বাঁচানোর চেষ্টা করলো বলে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে গ্রেপ্তার করে ফেললো? এ তো ভীষণ আশ্চর্যের।”
অসমীয়া বানর বললো, “হ্যাঁ, কারণ এই আইনে অপরাধ করার আগেই যে কাউকে কেবল সন্দেহের বশে আটক করা যায়, বিচার বা চার্জশিট ছাড়াই সর্বোচ্চ ১২ মাস অবধি জেলে রাখা সম্ভব।”

সব শুনে মেছো বিড়াল ভীষণ উত্তেজিত হয়ে বললো, “মানুষরা মোটেই অরণ্য, পশুপাখি, পরিবেশ এসব নিয়ে ভাবে না। ৯০% মানুষ একদমই ভাবে না, আর যে ১০% মানুষ ভাবে, তাদের মধ্যেও মাত্র ১০% মানুষই পরিবেশ বাঁচানোর জন্য আসলেই কিছু করে। কারোর কিছু যায় আসে না যদি সব বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে যায়, আমরা যদি সবাই মারা যাই।”

সবাই চুপ করে গেল। সবাই আসলেই কিছু আশার কথা শুনতে চাইছে। নিস্তব্ধতা ভেঙে বিনতুরাং বললো, “আমাদের হয়তো এই বন ছাড়তে হবে।”
চিতাবাঘ বললো, “হ্যাঁ, সেই ভালো। আমি তো ভাবছি দক্ষিণে নেমে ওড়িশার সিজিমৌলি ফরেস্ট বা মধ্যপ্রদেশের পান্না বা ছত্তিশগড়ের হাসদেও অরণ্যে চলে যাবো।”
হিমালয়ের ভাল্লুক হতাশ হয়ে বললো, “তোমরা যেতে পারবে, কিন্তু আমার এই এলাকা ছাড়ার উপায় নেই, আমি এখানেই থাকবো। ভাগ্যে যা লেখা থাকবে, তাই হবে।”
এতক্ষণ সব শুনে বাইসন স্বভাবসিদ্ধ গম্ভীর স্বরে বললো, “চিতাবাঘ যে অরণ্যগুলোয় যাওয়ার কথা বললো, আমি যতদূর জানি সেইসব জঙ্গলগুলোতেও যথেচ্ছভাবে গাছ কাটা হচ্ছে। আদিবাসীরা প্রতিবাদ করেও জঙ্গল ফেরত পাচ্ছে না। সরকার সবাইকে বলপ্রয়োগ করে সরিয়ে দিচ্ছে, আন্দোলন ভেঙে দিচ্ছে। আর সেইসব জায়গায় শিল্পপতিরা নিজেদের ইচ্ছেমতো শিল্প, রাস্তা, বাণিজ্য করবে। তাই আমার মনে হয় আমাদের এখানেই থাকা উচিত।”

চিতাবাঘ শুনে ভীষণই মুষড়ে পড়লো। হাতির পাল বেশ উত্তেজিত হয়ে বললো, “এক কিলোমিটার! এক কিলোমিটারের ঠিক পরেই উচ্চ শব্দ সৃষ্টকারী শিল্প কারখানা, শপিং মল, রিসর্ট বা আবাসন গড়ে তোলার অনুমতি মিলবে। ফলে বনের শান্ত পরিবেশ নষ্ট হবে এবং রাতে আলোর তীব্রতা আমাদের জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করবে।

এই মহানন্দা অভয়ারণ্য আমাদের চলাফেরার জন্য একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। মানুষ ও মানুষের বসতি বনের ঠিক ১ কিলোমিটারের মধ্যে চলে এলে আমাদের, চিতাবাঘদের ও হরিণদের লোকালয়ে ঢোকার প্রবণতা বহুগুণ বাড়বে, যার ফলে আমাদের বা ওদের প্রাণহানি, প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বাড়বে।

কমার্শিয়াল ও পর্যটন শিল্পের প্রসারের কারণে বনের সীমানা ঘেঁষে উঁচু কংক্রিটের দেওয়াল বা বড় নির্মাণ গড়ে উঠবে। এতে বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র আরও ছোট হয়ে আসবে।

নতুন নতুন রিসর্ট ও জনবসতি গড়ে উঠলে প্লাস্টিক বর্জ্য এবং অপরিশোধিত নোংরা জল বনের ভেতরে ও তিস্তা-মহানন্দার অববাহিকায় মিশে বন্যপ্রাণীর স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াবে। আর এভাবে যদি আমাদের হাঁটাচলা, থাকার জায়গা কমে যায়, আমরা ওদের এলাকায় ঢুকে যাবো বারবার। আমরা হয়তো আর বাঁচবো না! আর কিছু করার থাকবে না…”

সবার মধ্যে অস্থিরতা কাজ করছে, কেউ আসলেই সঠিকভাবে ভেবে পাচ্ছে না কী করলে সুরাহা হবে। কে বা কারা আবার তাদের জায়গা তাদেরকেই ফিরিয়ে দেবে। সারা পৃথিবীতে বনাঞ্চল কমতে কমতে এখন ১০-১১% জায়গা নেই যেখানে বন্যপ্রাণীরা সুরক্ষিতভাবে থাকতে পারে।

দিন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। আর কিছুক্ষণ পরেই জঙ্গলে ঘন অন্ধকার নামবে। সবার নিজেদের এলাকায় ফিরে যাওয়ার সময় এসেছে, কিন্তু কারোর পা নড়ছে না। এই অশান্তি, ভবিষ্যতের ভয় বুকে নিয়ে কী করে নিশ্চিন্তে ফেরা যায়!

বনের রাজা বলে উঠলো, “আমি জানি আমরা সবাই চিন্তিত। আর সবাই কোনও একটা আশার আলো বুকে নিয়ে আজ নিজেদের জায়গায় ফিরতে চাইছো। কিন্তু সত্যিই এই মুহূর্তে কিছু পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। তবে এটুকু আমাদের সবার আবার মনে করা উচিত আমরা বনের প্রাণী। এখানে প্রতিনিয়ত লড়াই করেই আমাদের বেঁচে থাকতে হয়। যে পরিস্থিতি আসুক, আমরা ঠিক বেঁচে থাকবো, বুকে এই জোর রাখতে হবে। এই পৃথিবীতে অনেক খারাপ মানুষ আছে, তার সঙ্গে সঙ্গে কিছু ভালো মানুষও আছে। যারা ঐ খারাপ মানুষদের বিরুদ্ধে আমাদের জন্যই লড়াই করে। এখনো তাই, আসামের প্রণব দলে বা ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশের আদিবাসীদের মতো মানুষদের উপর আমরা বিশ্বাস রাখতে পারি। এই মানুষরা অনেকসময়ই আমাদের সঙ্গে নিয়ে নিজেদের জীবনযাত্রা গড়েছে—যেমন হাতিদের চলাফেরার জন্য করিডোর করেছে, কেউ লোকালয়ে ঢুকে পড়লে তার কোনও ক্ষতি না করে আবার জঙ্গলে ফিরিয়ে দিয়েছে। এবারও তারা হয়তো রুখে দাঁড়িয়ে আমাদের জন্য ভাববে, লড়াই করবে। তাই শুধু আজ নয়, কোনোদিনই আমরা ভেঙে পড়বো না। আরেকটু বিশ্বাস রাখি সেই মানুষগুলোর উপর।”

বনের রাজমশাইয়ের কথায় সবাই যেন একটু হলেও বুকে বল পেলো। তারা জানে এই পৃথিবীতে তারা এখন সংখ্যালঘু। আর কে না জানে, সব জায়গায় সংখ্যালঘুদের সবসময়ই লড়াই করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হয়। এটাই তো অরণ্যের প্রাচীন প্রবাদ।

*****

ইকো-সেনসিটিভ জোন (Eco-Sensitive Zone বা ESZ)-এর বাংলা অর্থ হলো পরিবেশ-সংবেদনশীল অঞ্চল বা পরিবেশগতভাবে ভঙ্গুর এলাকা।
জাতীয় উদ্যান বা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের মতো সুরক্ষিত বনাঞ্চলের ঠিক চারপাশের নির্দিষ্ট দূরত্বের (সাধারণত ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত) এলাকাকে এই হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যেখানে পরিবেশের ক্ষতি রোধ করতে বিভিন্ন মানব কার্যকলাপ ও শিল্প স্থাপন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

মূল বৈশিষ্ট্য ও উদ্দেশ্য

সংরক্ষণ: সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশকে বাইরের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করা।
নিয়ন্ত্রণ: বড় শিল্প কারখানা তৈরি, খনি থেকে লোহা বা পাথর তোলা এবং বাণিজ্যিক নির্মাণকাজের ওপর কড়া নজরদারি রাখা বা নিষেধাজ্ঞা জারি করা।
অনুমোদিত কাজ: স্থানীয় মানুষের সাধারণ কৃষিকাজ ও পরিবেশবান্ধব জীবিকাকে চালু রাখা।

আমরা, ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র রূপে গড়ে তুলতে সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে শপথগ্রহণ করছি এবং তার সকল নাগরিক যাতে : সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার; চিন্তা,মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম এবং উপাসনার স্বাধীনতা; সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জন ও সুযোগের সমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং তাদের সকলের মধ্যে ব্যক্তি-সম্ভ্রম ও জাতীয় ঐক্য এবং সংহতি সুনিশ্চিত করে সৌভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলতে; আমাদের গণপরিষদে, আজ,১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর, এতদ্দ্বারা এই সংবিধান গ্রহণ করছি, বিধিবদ্ধ করছি এবং নিজেদের অর্পণ করছি।

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা