সবুজ মনের রসদ
Ichchhamoti Logo

নেপালের আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার পর শিশুদের অবস্থা: ইউনিসেফের রিপোর্ট

নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার ছোট ছোট ছেলেমেয়ে খুব আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এই দুর্যোগের ভয়ানক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার জন্য তাদের অবিলম্বে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও ভালোবাসার সাহায্য প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল সংস্থা ‘ইউনিসেফ’ (UNICEF)।

এই বন্যা শিশুদের জীবনে গভীর ছাপ ফেলেছে। তারা নিজের চোখে প্রিয়জনদের হারিয়ে যেতে দেখেছে, চোখের সামনে নিজেদের ঘরবাড়ি ও স্কুল ভেঙে পড়তে দেখেছে। অনেক শিশুকে নিজের এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে, আবার অনেকের পরিবারের মানুষ নিখোঁজ হওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। হিসেব করে দেখা গেছে, প্রায় ১৭,০০০ শিশুর মানসিকভাবে সুস্থ হওয়ার জন্য বিশেষ সাহচর্যের প্রয়োজন। আর ৫৪১ জন শিশু একদম একা হয়ে পড়েছে বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে—যাদের নিরাপত্তার চরম অভাব। এই সংখ্যাগুলো দেখায়, দুর্যোগটি শিশুদের মন ও তাদের পরিবারকে কতটা ভেঙে দিয়েছে।

নেপালে ইউনিসেফের প্রতিনিধি অ্যালিস আকুঙ্গা (Ms. Alice Akunga) বলেছেন, "যে ক্ষয়ক্ষতি চোখে দেখা যাচ্ছে, তার থেকেও বড় ক্ষত তৈরি হয়েছে শিশু এবং তাদের পরিবারের মনে। বন্যা যখন আঘাত হানে, তখন বাচ্চারা স্কুলেই ছিল। মুহূর্তের মধ্যে তাদের সেই চেনা ও নিরাপদ পরিবেশটা হারিয়ে যায়। ভয়াবহ সব দৃশ্য চোখের সামনে দেখে অনেক শিশুই এখন ভয়ে, চিন্তায় ও শোকে কাতর হয়ে পড়েছে। এমনকি অনেকে এত ভয় পেয়েছে যে যা ঘটেছে তা মুখে বলতেও পারছে না। ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো ও ভেঙে পড়া ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শিশুদের মনের যত্ন নেওয়া ভীষণ জরুরি, যাতে তারা যা ঘটেছে তা সামলে উঠতে পারে, আবার সুরক্ষিত বোধ করে এবং আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।"

নুয়াকোটের ত্রিশূলী হাসপাতালের ডক্টর শীতাংশু ঢাকাল (Dr. Shitanshu Dhakal) বলেছেন, "বন্যার প্রকোপে আসা শিশুদের এবং তাদের পরিবারগুলির মনের গভীরে আতংক চেপে বসেছে। বিপর্যয় ঘটার বহুদিন পরেও ভয় থেকে যায়। শিশুদের মানসিক সুরক্ষাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে তাদের মানসিক পরিস্থিতি আরও খারাপ না হয়ে যায়।"

যেকোনো দুর্যোগে মানুষের জীবন বাঁচানোর মতোই জরুরি হলো তাদের মানসিক যত্ন নেওয়া। শুরুতেই মনের যত্ন নিলে ছোটরা তাদের ভয় কাটিয়ে উঠতে পারে, মন থেকে চিন্তা দূর হয় এবং প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবন আবার ফিরে আসে। তাছাড়া, যেসব শিশু গভীর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করে ডাক্তারদের কাছে নিয়ে যাওয়া সহজ হয়।

ইউনিসেফ নেপাল সরকার এবং অন্যান্য সংস্থার সাথে হাত মিলিয়ে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ করছে। ইতিমধ্যেই ১৮ জন হারিয়ে যাওয়া শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছানো গেছে। আর যেসব শিশু বাবা-মা উভয়কেই হারিয়েছে, তাদের জন্য ভালো কোনো নতুন পরিবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাতে শিশুরা পাচার না হয়ে যায় বা কোনো বিপদে না পড়ে, তার জন্য রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে নজরদারি টিম বসানো হয়েছে।

একই সাথে, ছোটরা যাতে ভয় কাটিয়ে একটু খেলতে, শিখতে ও হালকা হতে পারে—তার জন্য ১৮টি বিশেষ ‘Child-Friendly Space’ বা ‘শিশুবান্ধব জায়গা’ তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি তৈরি হয়েছে ইউনিসেফের সহযোগিতায়। সেখানে অভিজ্ঞ মনের ডাক্তার এবং কর্মীরা শিশুদের পাশে থেকে তাদের আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সাহস জুগিয়ে যাচ্ছেন।

- ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রকাশিত ইউনিসেফ প্রেস রিলিজ এর সংক্ষিপ্ত অনুবাদ

আমরা, ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র রূপে গড়ে তুলতে সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে শপথগ্রহণ করছি এবং তার সকল নাগরিক যাতে : সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার; চিন্তা,মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম এবং উপাসনার স্বাধীনতা; সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জন ও সুযোগের সমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং তাদের সকলের মধ্যে ব্যক্তি-সম্ভ্রম ও জাতীয় ঐক্য এবং সংহতি সুনিশ্চিত করে সৌভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলতে; আমাদের গণপরিষদে, আজ,১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর, এতদ্দ্বারা এই সংবিধান গ্রহণ করছি, বিধিবদ্ধ করছি এবং নিজেদের অর্পণ করছি।

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা