জ্ঞানের স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে দিও তোমার বন্ধুদের মধ্যে

শুভ জন্মদিন ইচ্ছামতী।
তারুণ্যের দীপ্তিতে উজ্জ্বলতর হতে থেকো, স্বীয় মেরুদণ্ডের অর্জিত সম্মান রক্ষা কোরো (হ্যাঁ, পত্রিকারও মেরুদণ্ড হয়, ক্ষেত্রবিশেষে দশের স্বার্থে পত্রিকার মেরুদণ্ডের মর্যাদা রক্ষা করা অবশ্য পালনীয় কর্তব্য বলে বিবেচিত হয় বইকি!), জ্ঞানের স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে দিও তোমার বন্ধুদের মধ্যে।
তোমার আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের গল্প বলব বলে চিঠি নিয়ে বসা আজ। তোমার সঙ্গে আলাপ আমার ২০১৬ সালে। নানান বাঁক ঘুরে নদীর একটা নতুন মোড়ে এসে হাজির হয়েছি সেই সময়ে। আজন্মলালিত বহু অভ্যেসই ভুলেছি, রপ্ত হয়েছে আরও অনেক নতুন অভ্যেস। ফেলে আসা, এসে পাওয়া, নানান মুহূর্ত জমে জমে দিন কেটে রাত আর রাত কেটে দিন হয় তখন। আপাত-গোছানো গেরস্থালির আপাত-ব্যস্ত দিনযাপনে ক্ষণেকের অবসরে তিষ্ঠোতে দেয় না মনের গহীনে ঘাই মারতে থাকা একটা অস্বস্তিকর প্রশ্ন : "তুমি কে? তুমি কী?"
অস্তিত্বের স্বাতন্ত্র্যের খোঁজে হাতড়ে বেড়াই এটা-ওটা, নিবিষ্ট হতে চেষ্টা করি রেখে আসা সময়ের বড় আপনার কিছু কাজে। নিজেকে পড়ার অভ্যেস করি। গল্প লেখার শুরু হয়েছিল এভাবেই। গোটাদুয়েক গপ্প লিখে ফেলার পরেই হাজির হয় নতুন প্রশ্ন :
"লিখছি তো, পড়বে কে? কীভাবে পৌঁছোবে লেখা বেশি লোকের কাছে, অচেনা অজানা পাঠকের কাছে?"
আবার হতাশা, আবার খোঁজ। এমন খুঁজতে খুঁজতেই তোমার সঙ্গে দেখা। কয়েকটি কিস্তির বিভিন্ন বিভাগে ঘোরাঘুরি করে এত ভাল্লাগলো কী বলব! গল্প, ছড়া, ইতিহাস, বিজ্ঞান, বেড়ানো, এমনকি হাতের কাজও, কী নেই! একদিন খুব সাহস করে চাঁদের বুড়িকে একখানা ইমেইল করেই ফেললাম, তোমার কাছে লেখা পাঠানোর নিয়ম জানব বলে। তারপর আরও সাহস করে একখানা লেখাও পাঠিয়ে দিলাম, গল্প-স্বল্প বিভাগের জন্য। সেই শুরু।
তুমি আর চাঁদের বুড়ি আমায় যে কতকিছু শিখিয়েছ এই দশ বছরে! সত্যি বলতে কী, নিবন্ধ লেখার হাতেখড়ি এবং হাত পাকানো আমার তোমাদের হাত ধরেই। একটা ছোট্ট অনুচ্ছেদ লিখতে হলে কতটা পড়াশোনা করতেই হয়, পড়ার ইচ্ছে এবং ধৈর্য না থাকলে যে লেখার কথা একেবারেই ভাবতে নেই, এসবই আমার ভাল করে শেখা তোমাদের কাছে। তোমার শৈশব থেকে তারুণ্যের যাত্রাপথে আমি তোমার কতটা কাজে লাগতে পেরেছি জানি না, তবে আমায় যে তুমি সমৃদ্ধ করেছ তা মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করি।
চিঠিটা বোধহয় বড্ড বড় হয়ে যাচ্ছে তাই না? আচ্ছা বেশ, ইতি টানি তবে এবার। আসলে কী বলো তো? এই দশ বছরে আমার অভ্যেসে তুমি হচ্ছ সেই নাছোড়বান্দা বন্ধুগুলোর মতো, যারা অনবরত নিজেকে খোঁজার কথা মনে করাতে থাকে। লেখা ছাড়া আর সবকিছুতে আপাত-ব্যস্ত হয়ে পড়া আমাকে জোর করে লিখতে বসিয়ে তুমি বারবার মনে করিয়েছ নিজেকে যেন ভুলে না যাই। এমন বন্ধুর জন্মদিনের চিঠি বড় হবে না বলো?
শুভ জন্মদিন। ভালো থেকো। সৃষ্টিতে থেকো।
ইতি
ধূপছায়া
- বিস্তারিত
- লিখেছেন ধূপছায়া মজুমদার
- বিভাগ: ইচ্ছামতী ১৮ । বিশেষ ক্রোড়পত্র । শুভেচ্ছাবার্তা
ইচ্ছামতী আমার বন্ধুর মতো

ইচ্ছামতী এবার শিশু থেকে জোয়ান হতে শুরু করেছে। ছোট ইচ্ছামতী আমার চোখের সামনেই বড় হলো। ওর নিশ্চয়ই টিনএজের শুরুটা আমার মতো ছিল। মানে আমি সেরকম কিছু কল্পনা করতে পারি।
পত্রিকা আসলে কতগুলো লেখার পুঁটলি নয়। কোনো বড় বস্তাও নয়। যে যেমন খুশি ঠেসেঠুসে ভরে দেব, তা নয়। লেখাগুলোকে সুন্দর করে সাজাতে হয়। ওটা তেমন সোজা নয়। বাড়িতে গেস্ট এলে যেমন চিন্তা করে রাখি ভালো করে গুছিয়ে তাদের খেতে দেব l সেটা অনেক দিন আগে থেকেই চিন্তা করে রাখি, ওরকম করে লেখাগুলোকে পরপর সাজাতে হয়।
যারা লেখা পাঠায়, কে জানে কত দূরে থাকে। কেউ সকালে বসে লিখছে। কেউ রাতে বসে লিখছে। সেই সকাল-রাত, দূরের-কাছের সব লেখা একদিন এক জায়গায় জমা হয়।
খুব সুন্দর লাগে আমার, ভাবলেই।
ইচ্ছামতী আমার বন্ধুর মতো। আগে মা পড়ে শোনাত। আমি পড়ি নিজে এখন।
জন্মদিনে বন্ধুদের যা বলি সেটাই বলছি many many happy returns of the day!
[বার্তাটি মুখে বলেছে ক্লাস সেভেনের অর্হণ খাঁ। টাইপ করে পাঠিয়েছেন অর্হণের মা।]
- বিস্তারিত
- লিখেছেন অর্হণ খাঁ
- বিভাগ: ইচ্ছামতী ১৮ । বিশেষ ক্রোড়পত্র । শুভেচ্ছাবার্তা
হাতে আঁজলা ভরা থাক ইচ্ছামতীর থৈ থৈ জল

“যখন যেমন মনে করি
তাই হতে পাই যদি
আমি তবে একখানি হই
ইচ্ছামতী নদী।”
শিশু ভোলানাথের রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন ষাটের কোঠায়। ছোটদের জন্য লিখছেন একের পর এক আশ্চর্য কবিতা। বয়স ছুতো। স্মৃতি, ভাষা আর কল্পনার ছু মন্তর তখনও ছুঁয়ে দেখছে শৈশবের রোদেলা উঠোন।
ইচ্ছামতী ছোটদের ম্যাগাজিন। তাই বলে বড়রা কি নেই? কে বলে নেই? বড় হওয়া আসলে ক্যালেন্ডারের ট্রিক। বাবা সুবলচন্দ্র ও তাঁর অবাধ্য ছেলে সুশীলচন্দ্রের মতো। ইচ্ছাপূরণ হলেই চিচিং ফাঁক।
আমাদের বড় হওয়ার দিনগুলোতে যখন ক্রমে গিলি গিলি গে, ছু মন্তর, চিচিং ফাঁককে সরিয়ে জায়গা করে নিচ্ছিল আব্রা কা ডাব্রা; নন্টে ফন্টে, হাঁদা ভোঁদা, বাঁটুল দি গ্রেট সদ্য সদ্য বাংলা অ্যানিমেশনের হাত ধরে উঁকি মারছিল টিভির পর্দায়, সহস্রাব্দের সেই শুরুর দশকে হারমাইওনি গ্রেঞ্জারও শেখাচ্ছিল উইনগার্ডিয়াম লেভিওসা-র সঠিক উচ্চারণ — লেভি-ও-সা। কালকের শিশু আজ তিরিশের কোঠায়। অতীতের দপ্তরে সময়ের ধুলো। জেন জি, জেন আলফা, জেন বিটা আজকের অপ্রতিরোধ্য আগামী।
আমি যখন ইচ্ছামতীতে লিখতে শুরু করেছিলাম তখন সদ্য স্কুল শেষ করে কলেজে পা দিয়েছি। মাঝে গিয়েছে মহামারী, এসেছে এ আই, গ্লোবাল ওয়ার্ল্ড অর্ডারটাই গিয়েছে বদলে। চাঁদের বুড়ির আন্তরিকতা আর বকুনিতে শিখেছি অনেক। সময়ের হাওয়াগাড়ি চেপে ইচ্ছামতীও এ বছর পা দিয়েছে আঠারোয়।
***
ইচ্ছামতী প্রাপ্তবয়স্ক। প্রাপ্তি কী?
পুরোনো লেখার ক্যাটালগ ঘাঁটলে দেখা যায় অসামান্য সব মনি মানিক্য। সময়সিন্দুকে রাখা একযুগের শৈশবের হালখাতা। পাঠক প্রচুর। লেখক, শুভানুধ্যায়ীদের সংখ্যাও কম নয়।
বাড়ির হাজারো কাজে ব্যস্ত বড়োরা অনেক সময়ই নতুন সময়ের ফেরিওয়ালার ডাক শুনতে পায় না। বড়দের একটা বড় সমস্যা — সেখানে লেখক, সম্পাদক প্রমুখ সবাই-ই শিশুসাহিত্যের আয়নায় নিজেদের শৈশবকে দেখতে চায়। বোঝে না যে, নতুন সময়, নতুন সময়ের মন নতুনের চোখ দিয়ে দেখা অন্যরকম। নতুন প্রজন্ম কী কী পড়ছে, কী কী দেখছে, কী কী তাদের কাছে জনপ্রিয় — এই সবের খোঁজ রাখাও যে কোনো ছোটদের পত্রিকার জন্য প্রয়োজনীয়। জরুরি আরো বেশি বেশি করে আগামী প্রজন্মের কন্ঠস্বরকে তুলে ধরা। যে ব্যস্ততার উল্লেখ করলাম, তাতে এখন বড়দের চেয়ে ছোটদের পাল্লাও কম ভারী নয়। টাইম পত্রিকা প্যান্ডেমিকের সময় থেকেই আরম্ভ করে পারসন অফ দ্য ইয়ারের ছোটদের সংস্করণ — কিড অফ দ্য ইয়ার। বিশ্বে কাজের ছাপ ফেলতে এখন আর ছোটদের বড় হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার খুব একটা দরকার পড়ছে না, তার অনেক আগেই তারা নজর কাড়ছে সকলের।
কিন্তু ব্যস্ততার সাথে জরুরি শৈশবকেও উপভোগ করা। হাজারো চাপের মধ্যে যেন খোলা থাকে একটু খেলার মাঠ। রাতের আকাশ। বলাই- এর মতো গাছেদের সাথে বন্ধুত্ব। জানলা খুলে যে গাছটা দেখতে পাও, তার নাম জানো? নাম না জানা মানে ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া। হিটলারের কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পে ইহুদি বন্দীদের নাম মুছে তাঁদের হাতে একটা সংখ্যা উল্কি এঁকে দেওয়া হত। ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হত তাঁদের ডাকনাম। পরিচিতি শুধু একটা সংখ্যামাত্র।
বাংলায় বিভূতিভূষণের লেখায় কতশত ছোট বড় জংলা গাছের নাম। কিন্তু তার অনেক অনেক নামই ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। অক্সফোর্ড পকেট ডিকশনারি গুরুত্বের দিক দিয়ে কম শব্দ সংখ্যা আঁটতে গিয়ে বাদ দিচ্ছে কম ব্যবহার হওয়া অনেক শব্দ। ফলে বাদ চলে যাচ্ছে গাছের নাম, সেই জায়গায় স্থান করে নিচ্ছে ইন্টারনেটে ব্যবহার হওয়া নতুন নতুন শব্দ। বিভূতিভূষণের প্রজন্ম গাছের নাম ধরে ধরে গাছ চিনত। সেইসব গাছের ডাকনাম থাকত। আমরা যেমন ভালোবাসার মানুষকে ডাকনামে ডাকি। রবীন্দ্রনাথ কতসব গাছের, ফুলের ডাকনাম দিয়েছিলেন — অমলতাস, নীলমণিলতা, বাগানবিলাস, হিমঝুরি, অলকানন্দা, বনপুলক, মুক্তোঝুরি, অগ্নিশিখা, মধুমঞ্জরী আরো কত কী! এখন আমরা আর গাছেদের নাম ধরে চিনি না। গাছেদের ডাকনাম নেই। তার বদলে প্রযুক্তির হরেকরকম শব্দ আমাদের ঠোঁটস্থ।
***
ইচ্ছামতী একটা নদী। তার একপারে বাংলা ও বাঙালির সমৃদ্ধ জনপদ। জংলা গাছের আদুরে ডাকনাম। অন্যপারে বিশ্বসাহিত্যের-বিশ্বসিনেমার রামধনু, আগামীর আবাসন, প্রযুক্তির নগরী।
অনেকের বিশ্বাস জলের স্মৃতিধর। অতীত সভ্যতাকে লালন করেছে নদী। কিন্তু নদীর জলের বয়স কত? নদী কি পুরোনো হয়? প্রতিদিনই তো তাতে নতুন স্রোত বয়। সেই উজান বেয়ে ভেসে চলুক সবুজ মনের ডিঙি, আর হাতে আঁজলা ভরা থাকুক থৈ থৈ জল। ওয়াটার মেমরি।
- বিস্তারিত
- লিখেছেন পৃথু হালদার
- বিভাগ: ইচ্ছামতী ১৮ । বিশেষ ক্রোড়পত্র । শুভেচ্ছাবার্তা
ইচ্ছেগুলো খুঁজে পেল ...

ছোটবেলায় যখন ভবানীপ্রসাদ মজুমদারের ছড়া বা সুকুমার রায়ের আবোলতাবোল পড়েছিলাম তখন কীভাবে যেন আমার নিজেরও ছড়া লিখতে খুব ইচ্ছে হয়েছিল। ছন্দ কী জিনিস বুঝতাম না, শুধু মনে হতো প্রতি লাইনের শেষ শব্দগুলো মিলিয়ে পরপর অন্তত চার লাইন লিখতে পারলেই ছড়া তৈরি হয়ে যায়। আমি যখন প্রাইমারি স্কুলে পড়ি তখন কতকটা এরকম ভেবেই আমি দুটো তিনটে আমার নিজস্ব ‘ছড়া’ লিখে ফেলেছিলাম। ছড়া তো লিখে ফেললাম, কিন্তু তারপর? অন্য স্কুলের মতো আমার স্কুলে মাসিক বা বার্ষিক ম্যাগাজিন বেরোত না, যেখানে ছাত্রছাত্রীদের লেখা ছাপার অক্ষরে পাওয়া যেতে পারে। তাই বাবা-মায়ের সংযত প্রশংসা ‘মোটামুটি হয়েছে, তবে পড়াশোনায় মন দাও’ বা বন্ধুদের হাসাহাসি দেখে বুঝতেই পারতাম না আদৌ ভালো লিখেছি কী না। তাই মনে হতো কেউ যদি যত্ন করে লেখাগুলো পড়ে, ভালো কিছু বলে (ভালোটাই শুনতে মন চাইতো 😊) বা চিঠি লিখে উত্তর দেয় তাহলে খুব ভালো লাগবে। আমি তখন জানতামও না কোথাও ছোটরা লেখা পাঠাতে পারে কী না… আর আমি পঁচিশোর্ধ্ব হওয়ার পর সেই খবর জানতে পেরেছিলাম।
‘ইচ্ছামতী’ ছিল শুধুই ছোটদের জন্য। যখন আমার সবচেয়ে কাছের দিদি তিথিদির থেকে এই পত্রিকা বা ওয়েবজিনের খোঁজ পেয়েছিলাম তখন বিষয়বিভাগের রকমফের দেখে যারপরনাই চমকে গিয়েছিলাম। ছোটদের মনের আনাচেকানাচে যত প্রশ্ন, যত খোঁজ উঁকি দেয় সবকিছুর একটি আসর হলো ইচ্ছামতী। সবচেয়ে ভালো লেগেছিল আমার ছোটবেলার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে - ইচ্ছামতীতে ছোটরা তাদের মন উপুড় করে দিতে পারে, গল্প বলতে পারে, ছড়া পাঠাতে পারে, কোনও বিষয় নিয়ে তাদের মতামত থাকলে তাও শোনাতে পারে, তাদের মনের অজানা কিছু যদি সাদা পাতায় বিভিন্ন রঙে সেজে ওঠে তাও তারা পাঠাতে পারে।
ছোটদের জন্য প্রতি মাসে ভালোবেসে সেজে উঠতো ইচ্ছামতী। ইচ্ছামতী ডিজিটাল পত্রিকার একদম প্রথমে থাকে চাঁদের বুড়ির চরকা-চিঠি। যখনই সেই চিঠি পড়ি মনে হয় কেউ সত্যিই অনেক দূরে কোথাও (চাঁদের মতোই) বসে ছোটদের দেখছে আর ভালোবেসে তাদের ইচ্ছেপূরণ করছে। আমার ছোটবেলায় চিঠি পাওয়ার যে আনন্দ খুঁজতাম, তাই ভেসে ওঠে মনে। চিঠি পড়ে নিয়ে ছোটরা আর তার সঙ্গে বড়রাও (তাদেরও পড়তে-দেখতে নেই মানা) ডুব দিতে পারে বিভিন্ন বিভাগের বিষয়গুলোতে।
যেমন কল্প জগতের গল্প পড়তে চাইলে ‘গল্প-স্বল্প’ বা ছড়া, কবিতা পড়ে দুলতে চাইলে ‘ছড়া-কবিতা’ বিভাগে ঢুঁ মারতেই হয়। নানা অজানা কাহিনীতে রোমাঞ্চিত অনুভব করলে ‘জানা-অজানা’, রূপকথা বা পুরাণ পড়তে ভালো লাগলে ‘রূপকথা’, ‘পুরাণকথা’ বা ‘মহাকাব্যের গল্প’ বিভাগে ঢুকে হারিয়ে যেতে হয়। ছোটদের চলচ্চিত্র বা বই নিয়ে আলোচনা পড়ে ঋদ্ধ হতে চাইলে ‘ছবির খবর’ বা ‘বইপোকার দপ্তর’-এ যেতেই হয়। খেলার নানা টুকিটাকি জিনিস নিয়ে জানতে চাইলে ‘এক্কা দোক্কা’, নিজে হাতে কিছু বানাতে চাইলে ‘সৃজনী’, বিশেষ কিছু মানুষ যারা জীবনে অনেক মানুষকে যুগ যুগ ধরে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের ব্যাপারে পড়তে চাইলে ‘মনের মানুষ’ বিভাগে যেতে হয়। এছাড়া ‘নাটক’, 'ফটোগ্রাফি’, ‘দেশে বিদেশে’, ‘টুকরো খবর’ আরও নানা বিভাগ রয়েছে। তবে এই এত বিবিধ বিষয়ের মাঝে আমার সবচেয়ে প্রিয় হলো ‘পরশমণি’ এবং ‘আনমনে’। বিজ্ঞান, আবিষ্কার, সভ্যতার অগ্রগতি, গবেষণার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আশ্চর্য অনেক কাহিনী জানতে পারা যায় ‘পরশমণি’ বিভাগে। যেকোনো সময়ে দাঁড়িয়ে শিশু-কিশোরদের বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলতে, ভাবাতে পারে এই বিভাগের লেখা, ছবিগুলো। আর মানুষের জীবনের নানা টুকিটাকি মনকেমন করা নিটোল অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া হয় ‘আনমনে’ বিভাগে, যেখানে আমি একসময় লেখক সন্তোষ কুমার রায়ের নিজের জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা পড়েছিলাম। ছোটবেলায় নিছক গল্প শুনে যে শান্তি পেতাম, তাই অনুভূত হতো বারবার।
এতগুলো বিভিন্ন লেখাকে প্রতি মাসে সুচারুভাবে সুনির্দিষ্ট বিভাগগুলোয় ভাগ করে এই ওয়েবজিনকে বছরের পর বছর যিনি একা হাতে সামলে ছোটদের তথা বড়দের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি হলেন ইচ্ছামতীর সম্পাদিকা মহাশ্বেতা রায়, আমাদের মহাশ্বেতা দিদি ❤️।
ইচ্ছামতী ওয়েবজিনে আমারও একটি-দুটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তবে তার জন্য মহাশ্বেতাদিকে একটু সমস্যার মধ্যেই পড়তে হয়েছে বলে মনে হয়। আমি হলাম ট্রেন ফেল করা সেই সাধারণ ছাত্র, যে ট্রেন ধরতেও পারে না, কিন্তু ক্লাস কামাই করে আনন্দ করতে না পেরে কষ্ট পায়। তাই লেখা দিতে চেয়েও সময়ে দিতে না পারার জন্য দিদিকে ব্যস্ত হতে হয়েছে কিছুবার। দিদি নিজগুণে ক্ষমা করতে পেরেছে বলেই মনে হয়।
ইচ্ছামতী ওয়েবজিনের বয়স ১৮ হল। মহাশ্বেতাদির কথায়, ইচ্ছামতী সাবালক হয়ে উঠতে চলেছে এবার, তাই শুধু ছোটদের পৃথিবীর জন্য নয়, আমাদের দেশ-পৃথিবীর ব্যাপারে ছোটদের মতামতও গুরুত্ব পাবে। সমাজ-পৃথিবীর নানাস্তরের মানুষ, তাদেরকে প্রভাবিত করা বিভিন্ন ঘটনা, বিষয়ের ব্যাপারে এবার থেকে জানা যাবে ইচ্ছামতীতে।
ইচ্ছামতীর বয়স এভাবেই বাড়তে থাকুক। ইচ্ছামতী আর সম্পাদিকা দুজনেই ভালো থাকুক।
- বিস্তারিত
- লিখেছেন অনিন্দ্য রাউৎ
- বিভাগ: ইচ্ছামতী ১৮ । বিশেষ ক্রোড়পত্র । শুভেচ্ছাবার্তা
পরবর্তী প্রজন্মের বন্ধু হোক ইচ্ছামতী

ইচ্ছামতীর ১৮ বছর পূরণ হয়ে গেল, এটা আলাদা করে না বলে দিলে বুঝতেই পারতাম না। তবে শোনার পরে ভেবে মনে হচ্ছে, তাই তো - সেই কত বছর আগে চাঁদের বুড়ি প্রথম বলল ইচ্ছামতীর কথা, কিছু লেখার কথা। তখন আমি ছাত্র - মাঝেমধ্যেই সময় করে লেখা দিতে থাকলাম। প্রথম কী যে লিখেছিলাম তা মনে নেই, কিন্তু মনে আছে মাঝে মাঝে খেলার গল্প, বেড়ানোর গল্প, আরও অন্যান্য বিষয়ে কিছু কিছু লেখা দিয়েছি - সবই নন-ফিকশন, গল্প বা কবিতা লেখার সাহস কোনদিনই হয়নি। তারপর ছাত্রজীবন থেকে কর্মজীবনে ঢোকা, নতুন শহরে নতুন জীবনের সাথে মানিয়ে নেওয়া, আরও বিভিন্ন কাজে অনেক সময় লেখা হয়ে উঠত না, অনেক সময় মাথার ভাবনা গুলোকে গুছিয়ে লিখে ফেলার আগেই ভাবনা গুলো পালিয়ে যেত। এরকম করে অনেক দিন লেখা হল না।
তারপর কিছুদিন আগে চাঁদের বুড়ি আমাকেসহ কয়েকজনকে মেসেজ করল যে ইচ্ছামতীকে আবার জাগিয়ে তোলা, নিয়মিত করা যায় কিনা। এই কয়েক বছরে পৃথিবীতে পরিবর্তন অনেক হয়েছে, হয়ে চলেছে; প্রযুক্তি অনেক ধাপ এগিয়েছে, কিন্তু মানুষের সমস্যা মেটানোর চেয়ে সেগুলো অনেক বেশি ব্যবহার হয়েছে মুষ্টিমেয় মানুষের স্বার্থসিদ্ধির জন্য, আর যার জন্য পৃথিবীর অনেক দেশে মানুষের জীবনযাত্রার উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আক্রমণ চলছে। আশার কথা, তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধও গড়ে উঠছে, আর তার এক বিরাট অংশে রয়েছে ছাত্রছাত্রীরা, শিশুকিশোররা - আর তা নাড়িয়ে দিচ্ছে শাসকদলের ভিত্তিকে। তাই আমি এখন যেখানে থাকি, আমেরিকার ওরেগন রাজ্যের পোর্টল্যান্ড শহরে, সেখানে যেমন দেখছি এই দেশের আরও অনেক শহরের মত ছাত্র আন্দোলনের রেশ, তেমন দেখছি দিল্লিসহ ভারতের অনেক শহরেও ছাত্রছাত্রীদের প্রতিরোধ।
এই পরিবর্তন গুলোর সাথে তাল রেখে চলার দায়বদ্ধতা রয়েছে শিশু, কিশোরদের পত্রপত্রিকাগুলোর - যাতে সমসাময়িক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো, বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, বিভিন্ন বিশ্লেষণ তাদের সামনে তুলে ধরা যায়। একশ্রেণীর মানুষ চাইবে এগুলোকে তাদের চোখের আড়ালে রাখতে, এবং সেখানেই এই পত্রপত্রিকাগুলোর - তা প্রিন্ট বা ওয়েব যে কোন মাধ্যমেই হোক - প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাজ। তাই ইচ্ছামতীর নতুন চলার সাথে আমার একনিষ্ঠ শুভেচ্ছা থাকবে যে এই কাজে সে যেন পরবর্তী প্রজন্মের বন্ধু হয়ে তাদের সাথে থাকতে পারে।
- বিস্তারিত
- লিখেছেন পাভেল ঘোষ
- বিভাগ: ইচ্ছামতী ১৮ । বিশেষ ক্রোড়পত্র । শুভেচ্ছাবার্তা
আমার চিত্র ও অলঙ্করণই ইচ্ছামতীর ভাষা হয়ে উঠেছে

আমি বিগত ১৮ বছর এক অদ্ভুত আনন্দ অনুভব করেছি ইচ্ছামতীর সাথে। যদিও বেশিরভাগ সময় আমার চিত্র ও অলঙ্করণই ইচ্ছামতীর ভাষা হয়ে উঠেছে। কিন্তু যে বিষয়গুলির অলঙ্করণ করেছি (যেমন মহাভারতের কাহিনী ইত্যাদি) সেই বিষয়ের লেখাগুলো পড়তে পড়তে আমিও কখন যেন ইচ্ছামতীর সাথে জুড়ে গেছি পাঠক হিসেবে। তাই পাঠক হিসেবেও দেখেছি কী চমৎকার সব লেখা—ছোট-বড় ভাবনার প্রকাশ যেন এক সাজানো-গোছানো বাগান। তাই শুধুমাত্র ছবি আঁকার নয়, অনেক সময় পাঠক হিসেবেও অপেক্ষা করেছি। অপেক্ষা ও কৌতূহল হয়েছে যে আগামী সংকলনে কীরকম অলঙ্করণ করার সুযোগ হবে। সময়ের সাথে উৎসাহ ও কৌতূহল বেড়েছে ক্রমশ।
যদি অলঙ্করণের কথা বলি, আমার সার্বিক প্রচেষ্টা ছিল প্রত্যেকবার কিছু অভিনব ও উৎকৃষ্ট উপস্থাপনা করার। এক একটা গল্প এক এক রকমের সুযোগ চিন্তাভাবনা করার, কল্পনায় ডুবে যাওয়ার—অনুভব ও অনুভূতির গঙ্গার এক আবহমান স্রোতে ভেসে যাওয়ার।
সময় বহিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায় ! কীভাবে কেটে গেল ১৮ বছর! ফিরে দেখার সময় অনেক অনেক মজার অনুভূতি ফিরে আসছে। প্রথম ড্রয়িং করে পাঠাতাম, সেটা দেখে চাঁদের বুড়ি ফিডব্যাক দিতেন। সেটা মাথায় রেখে ফের একবার ড্রয়িং করতাম—যে পরিবর্তনগুলি বলা হয়েছে সেটা মাথায় রেখে। পুরো ব্যাপারটাই ক্রিয়েটিভ প্রসেসের অংশ।
ড্রয়িং অ্যাপ্রুভ হলে শুরু হতো রং দেওয়ার খেলা। আমি সব সময় চেষ্টা করতাম ড্রামাটিক লাইট এবং মিস্টিক অ্যাটমোস্ফিয়ার তৈরি করতে। লাইট মানে শুধুমাত্র কিয়ারোস্কুরো (আলো-ছায়া) নয় আমার জন্যে। Light makes everything alive in my composition and gives a mood to my illustration. If drawing is the body light puts the soul and emotions into that body.
এই বলে কলম রাখবো—অলঙ্করণ করার সময় আমি বারবার পাঠক হয়ে যেতাম প্রথমে। দেখতে চেষ্টা করতাম লেখক বা লেখিকার দৃষ্টিকোণ থেকে। সেই একই কারণে আমার মনে হয়েছে আমি ইচ্ছামতীর সাথে এক বন্ধনে বাঁধা পড়েছি, পাঠক হিসেবেও, অলঙ্করণ শিল্পী হিসেবেও। ১৮ বছর যেন খুব কম সময়, মন চায় এ পথ যেন না শেষ হয়। আর একটু বেশি হলে ক্ষতি কী!
- বিস্তারিত
- লিখেছেন অনুভব সোম
- বিভাগ: ইচ্ছামতী ১৮ । বিশেষ ক্রোড়পত্র । শুভেচ্ছাবার্তা

