সবুজ মনের রসদ
Ichchhamoti Logo
অভিযান

সবরকম খুঁটিনাটি রসদ বিকেলের মধ্যে জোগাড় করে রাখলাম, বলাই বাহুল্য সবার চোখ এড়িয়ে, ভাড়া করা স্পীডবোটে সেগুলো রেখে আসতে হল। ভোরের দিকে রওনা হলাম, ভাল মানুষের মত মুখ করে মাথা নাড়লাম যখন বাড়ির গিন্নি বললেন 'খুব ভাল লাগবে তোমার দেখে এসো'। সেদেশে ভোররাত থেকে সবাই উঠে পরে মাছ ধরতে যায়, অতএব ধরা পরার মহা সম্ভাবনা। স্যাম ভাবলেশহীন, তার অভিজ্ঞতার কাছে আমি শিশু, ঠিক ম্যানেজ করল, ধীরে ধীরে আমাদের দ্বীপটা চোখের বাইরে চলে গেল, ঘন ঝোঁপ জঙ্গলে ভর্তি বা ন্যাড়া কোরাল অ্যাটল এর মতো অনেক ছোট বড় দ্বীপ, পেরিয়ে ঘন্টা তিনেকের চেষ্টায় আমরা গন্তব্যে পৌঁছলাম। দ্বীপটা অনেকটা বড়, সমুদ্রের কিনারা বরাবর গাছপালা আছে, বেশ ঘন জঙ্গল তবে বড় গাছ কম। মাঝখানটা ক্রমশ উঁচু হয়ে চূড়োর মতো উঠেছে, খাঁড়া পাথরের শৃঙ্গের মত আর সেখানে সবুজ কমে এসেছে। বীচ বলে কিছু পাওয়া মুশকিল, এই কারনেই ওখানকার সব দ্বীপ বাসযোগ্য হয় না। স্যাম খুঁজে খুঁজে একটু সমতল কিনারা পেল, সেখানে বোট লাগান হল।

তাঁবু পেতে গুছিয়ে বসতেই যা একটু সময় গেছে, স্যাম বলল "আমরা এখানে বড়জোর দুদিন থাকতে পারব, অনেক রকম বিপদের সম্ভাবনা আছে, তাই এখনি কিছু খেয়ে নিয়ে উঁচু টিলাটার থেকে ঘুরে আসি তাহলে দ্বীপটার একটা আইডিয়া পাওয়া যাবে" , সে হাত তুলে একটা মাঝারি উঁচু চুড়ো দেখাল। ঘন্টা দুয়েক জঙ্গলের মধ্যে উঁচু নীচু ট্রেক করে আমরা টিলার মাথায় পৌঁছলাম। সেখানে দেখি অন্যদিকের ঢাল প্রায় ন্যাড়া ও কালচে মাটির, কিছু লাল ফুলে ভর্তি গুল্ম জাতীয় গাছ রয়েছে,আর ঢাল নিরবিচ্ছিন্ন নয় কিছু ইন্টারেস্টিং গর্তের মত দেখা যাচ্ছে যেন। স্যাম রুকস্যাক খুলে চটপট জিনিস বের করল, তারপর মাটি পাথরের নমুনা সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পরল,। মাটি-পাথর সম্পর্কে আমার জ্ঞান বড্ড কম তাই উৎসাহও কম,আমি সমুদ্রের ভাল ভিউ পেয়ে কিছু ফটো তুলতে লাগলাম। স্যামের কাছে সেসময়ের দামী ক্যামেরা ছিল সে ও ফটো নিল।সে দিনটা এভাবেই কেটে গেল এদিক সেদিক ঘুরতে।

আমি অকাজে বেড়াতে এলেও স্যাম যে তার কাজের ব্যাপারে সিরিয়াস সেটা টের পাচ্ছিলাম।লাল ফুলের গাছগুলো হাওয়াই তে প্রচুর দেখেছি, লাল ছাড়াও অন্য রঙের ফুল হয়। নামটা মনে করতে পারলাম না,স্যামকে জিজ্ঞাসা করতে সে বলল “লেহুয়া ওহিয়া”হাওয়াইয়ান নাম, এটা নেটিভ গাছ ওখানের, নানা প্রজাতি ছড়িয়ে আছে সাউথ প্যাসিফিকে”” ।

বহরমপুর মুরশিদাবাদে জন্ম ও বেড়ে ওঠা, প্রথম দিকের পড়াশোনা বিঞ্জান নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে, পরে তুলনামূলক সাহিত্যে বিষয় বদল শুধু ভালবাসা থেকে। বর্তমানে আমেরিকার বস্টন শহরে বসবাস। কবিতা আবৃত্তি , লেখা আর বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বেড়ানো শখ ।

আমরা, ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র রূপে গড়ে তুলতে সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে শপথগ্রহণ করছি এবং তার সকল নাগরিক যাতে : সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার; চিন্তা,মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম এবং উপাসনার স্বাধীনতা; সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জন ও সুযোগের সমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং তাদের সকলের মধ্যে ব্যক্তি-সম্ভ্রম ও জাতীয় ঐক্য এবং সংহতি সুনিশ্চিত করে সৌভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলতে; আমাদের গণপরিষদে, আজ,১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর, এতদ্দ্বারা এই সংবিধান গ্রহণ করছি, বিধিবদ্ধ করছি এবং নিজেদের অর্পণ করছি।

ফেসবুকে ইচ্ছামতীর বন্ধুরা