
২
শিবম ভাবতে লাগলো,আনন্দ তো আছে আম কুড়াবার,নদীতে স্নান করার,ছিপ নিয়ে মাছ ধরতে যাবার।
একবার লকু নিয়ে গিয়ে ছিলো চুর্নী নদীতে মাছ ধরতে। ছোট নদী,কিন্তু জল ছিলো অনেক!নৌকা চলে,বর্ষার সময় লঞ্চ ও নাকি যায়।সে বার লকু পল্টু,খেদু কোমরে গামছা বেঁধে এলো,সঙ্গে মাছ ধরার তিন চারটে ছিপ.শিবমকে চুপি চুপি লকু এসে বলল,শিবম,যাবি নাকি নদীতে?আমরা যাচ্ছি।
শিবমের মন নেচে উঠলো,চারি দিকে তাকিয়ে দেখল,না রোদ নেই,গরমও বেশ কম,তার মানে লু লাগার সম্ভবনা খুব কম.নেচে উঠলো ও,চল আমিও যাবো,কিন্তু বাবা মা যেতে দেবেন তো!বলে ওঠে শিবম।
লকু বলে,কেন দেবেন না,আমরা তো আছি।
--আমি তো সাঁতার জানি না রে!শিবম বলে।
--তুই স্নান করিস না,ঘরে এসে স্নান করে নিস।তুই সবার ছিপ দেখতে থাকিস,আমরা স্নান সেরে নেব,
শিবমকে লকু বলে দেয়।
--কিন্তু মা বাবাকে কে বলবে?শিবমের প্রশ্ন।
লকু খুব চঞ্চল--কোনো কাজে তার দেরী সয় না,সে মাসি মেসোর কাছে গিয়ে উপস্থিত হলো শিবমের নদীতে যাবার অনুমতি নিতে।
--শিবম তো সাঁতার জানে না,মেসো,মাসি বলে ওঠেন।
--মাসি,ও তো স্নান করবে না,পাড়ে বসে থাকবে,পাড়ে বসে মাছ ধরবে শুধু।
--তা, কি করে হয়,বলেই মাসি মেসোর দিকে তাকিয়ে বলে ওঠেন,কি গো শিবম ওদের সঙ্গে মাছ ধরবে বলে নদীতে যাবে বলছে!
--তুই সাঁতার জানিস না, যাবি কি করে?বাবা প্রশ্ন করেন শিবমকে।
--আমি জলে নামব না,ছিপ নিয়ে ডাঙায় বসে থাকব,বাবা!এক ঘন্টার মধ্যে চলে আসব!আব্দারের
সুরে বলে ওঠে শিবম।
অগত্যা এক ঘন্টার মধ্যে ফিরে আসার এবং জলে না নামার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিবম চলল চুর্নী
নদীতে মাছ ধরতে।
বাবাঃ ,এমনি খোলা মাঠে ঘাটে জঙ্গলে হাঁটতে দৌড়াতে কি আনন্দ!আশ পাশের বাতাস শরীর জুড়িয়ে দেয়--সরু মেঠো রাস্তা দিয়ে দূরের নদীতে যেতে উত্ফুল্ল আনন্দে শিবমের মন ভরে যায়।
--কি মাছ ধরব রে আমরা?শিবমের প্রশ্ন.
--লেটা,মাগুর,বেলে,অনেক রকম,চিংড়ি ও পাওয়া যায়,পল্টু বলে উঠে।
--একবার না আমরা একটা কচ্ছপ পেয়ে ছিলাম!খেদু শরীর নাচিয়ে বলে।
শিবম ছুট পেয়েছে বহুদিন পরে,চার দিকের রাস্তা,ঘাট মাঠ,জঙ্গল দেখতে দেখতে চলল,কি সুন্দর নালা বেয়ে ঢালানে জল গড়িয়ে নেমে যাচ্ছে!কোথাও কত আলের সরু রাস্তা,কোথাও লাল মাটির আঁকাবাঁকা পথ চলতে চলতে ঢুকে গেছে বন বনান্তরে,গ্রাম গ্রামান্তরে!লাফাতে,ছুটতে,ভাবতে কি না ভালো লাগছে!ছুট পাওয়া মনের উন্মুক্ত আনন্দ অনুভব করতে থাকে শিবম। চার সাথী চলেছে,কখনো জোর পায়ে,কখনো দৌড়নোর মত হেঁটে চলেছে,খেদুর ঘাড়ে সব ছিপের তাড়া।
